আকাশবার্তা ডেস্ক :
মন্ত্রিসভায় রদবদল হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নিতে যাচ্ছেন মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্য। এর মধ্যে নতুন করে যোগ হচ্ছেন অন্তত তিনজন। আর একজন প্রতিমন্ত্রী পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হচ্ছেন। সোমবার (০১ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব টেলিফোন করে তাদের প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা বঙ্গভবনে শপথ নেবেন।
এর মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এই মন্ত্রণালয়ের হতে পারেন লক্ষ্মীপুর-৩ এর এমপি একেএম শাহজাহান কামাল। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হতে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে। এছাড়া আইসিটি মন্ত্রী হতে পারেন প্রযুক্তিবিদ ও বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার।
জানা গেছে, সরকারের মেয়াদের চার বছরের মাথায় মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ দেয়ার পাশাপাশি কিছু রদবদল হতে পার বলে আভাস পাওয়া গেছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথের জন্য পাঁচটি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই চারজনের শপথ ছাড়াও মন্ত্রিসভায় আরও কিছু রদবদল আসতে পারে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব সোমবার দুপুর ১২টার একটু পরে তাকে ফোন করেছিলেন। সেই ফোনে তাকে আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ যেহেতু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তাকে বঙ্গভবনে শপথের জন্য ডাকার অর্থ তিনি পদোন্নতি পাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ৭২ বছর বয়সী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে নারায়ণ চন্দ্রকে দেয়া হয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হন সায়েদুল হক। কিন্তু তিনি ১৬ ডিসেম্বর মারা গেলে এই পদ খালি হয়।
রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলীও সোমবার ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব দুপুরে ফোন করেছিলেন আমাকে। কাল (আজ) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকতে বলেছেন।’ এই সংসদ সদস্য রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান কামাল বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টায় শপথ হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে জানানো হয়েছে। তিনি ফোন পাওয়ার সময় লক্ষ্মীপুরে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
কেন এই রদবদল?
আওয়ামী লীগের মধ্যে সরকার থেকে দলকে আলাদা করার একটা চেষ্টা রয়েছে। অর্থাৎ যিনি মন্ত্রী হবেন, তাকে দলের দায়িত্ব না দেওয়া। কিংবা যিনি দলের দায়িত্বে আছেন, তাকে মন্ত্রী না করা। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে গত সম্মেলনে অনেক মন্ত্রীই দলীয় পদ পাননি। আরেকটি কারণ হচ্ছে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিতর্ক, অনিয়ম ও পারিবারিক বদনাম। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি তারেক সাঈদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী মায়ার ওপর কিছুটা রুষ্ট হন।
২০১৫ সালে ব্রাজিল থেকে নিম্নমানের গম আমদানির কারণে কেলেঙ্কারির জন্ম দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এছাড়া যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর মামলার রায় নিয়ে এক সেমিনারে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ ঘটনায় আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উচ্চ আদালত। অদক্ষতার কারণেও কিছু কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাদ যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দলের যেসব নেতা প্রায় আট বছরের ক্ষমতাকালে সরকারি দায়িত্ব পাননি, তাদের কথা বিবেচনায় নেয়া হতে পারে।
বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩১ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও ২ জন উপমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় ৫জন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ দূত রয়েছেন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শপথ নেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৯ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপমন্ত্রী। এই মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির তিনজন, ওয়ার্কার্স পাটির ও জাসদের একজন করে স্থান পান। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি পায়। শপথ নেন এ এইচ মাহমুদ আলী ও নজরুল ইসলাম। এর মধ্যে আমেরিকা সফরে গিয়ে হজ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে অক্টোবরে বাদ পড়েন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
পরের বছরের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে যুক্ত করা হয়। পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হন ইয়াফেস ওসমান ও আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হয় খোন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। প্রথমে সৈয়দ আশরাফকে দপ্তরবিহীন, পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সূত্র : আমার সংবাদ।