
রিপোর্ট : মো. আলী হোসেন :
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি একেএম শাহজাহান কামাল মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। একই সময় প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও তথ্য প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার মন্ত্রী হিসাবে এবং রাজবাড়ির সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। তবে কাকে কোন দপ্তর দেওয়া হচ্ছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা জানা যায়নি।
এদিকে লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামালকে মন্ত্রী নিযুক্ত করায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীসহ লক্ষ্মীপুরের সর্বত্র আনন্দ উৎসব বিরাজ করছে। জেলা শহরে এবং জেলার চন্দ্রগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি চলছে।
একেএম শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য তিনি। ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পার্লামেন্টে তিনি সর্বপ্রথম এমপি নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বর্ষিয়ান ও প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগের একজন পরীক্ষিত কর্মী। দল ও নীতির প্রশ্নে কখনও কারো সাথে আপোষ করেননি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষবছর লক্ষ্মীপুরের জন্য এটি একটি চমক উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সারাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত করা। যদিও মন্ত্রীসভায় রদবদল এবং নতুন মন্ত্রী নিয়োগ এটি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছার উপরই নির্ভর করে। মাঝে মাঝে সরকার পরিচালনায় এবং কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী এমন চমক বেশ কয়েকবার দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে কোনো বিশেষ অঞ্চল বা জেলা যেন বাদ না পড়ে। সে লক্ষ্য মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ৯ বছরের টানা শাসনামলে অনন্ত ১০বার মন্ত্রীসভায় নতুন মুখ যুক্ত করে চমক সৃষ্টি করেছেন। এতে অঞ্চলভিত্তিক জনগণ খুশি হয়েছে এবং সরকারের কাজের গতি ও জবাবদিহিতা বেড়েছে।
একেএম শাহজাহান কামালের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন :
বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াল দিনগুলোতে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে সম্মুখ সমরেও লড়াই করেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর এলাকার উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন শাহজাহান কামাল।
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নোয়াখালী-১১ (বর্তমানে লক্ষ্মীপুর-৩) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একই আসন থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
একেএম শাহজাহান কামালের জন্ম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুপুর গ্রামে। তাঁর পিতা আলহাজ্ব ফরিদ আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকে জনাব শাহজাহান কামাল একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। ছিলেন, একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি দীর্ঘ সময় একনাগাড়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ছোট ভাই ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি।
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন শাহজাহান কামাল। তাঁর কাছে এলাকার সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি সানন্দে গ্রহণ করেন এবং মানুষের সমস্যার কথা ধৈর্য্য সহকারে শোনেন।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজকে ১১ দফার আন্দোলনে সংগঠিত করেন শাহজাহান কামাল। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ও লক্ষ্মীপুর জেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনে তিনি কারাবরণ করেন। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধের আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দেন।
সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জনাব শাহজাহান কামাল জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দেশ-উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ও লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজ, জেলার শতাধিক স্কুল, কলেজ, মন্দির, মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করলে শাহজাহান কামাল জনতা ব্যাংকের ডিরেক্টর নিযুক্ত হন। এ সময় তিনি লক্ষ্মীপুরের গরিব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা-সহায়তা হিসেবে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। এরপর তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসাবে দীর্ঘ কয়েক বছর সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসাবে দক্ষতা, যোগ্যতার উজ্জল স্বাক্ষর রেখেছেন।