সোমবার ২রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

এরশাদ জামায়াতে আগ্রহ কম ভোটারদের

আকাশবার্তা ডেস্ক :
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যতই বলছেন তার দল আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যাক্টর এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া কোনো দলই ক্ষমতায় যেতে পারবে না, ততটাই উল্টো সুর ভোটারদের। ভোটারদের কেউ কেউ বলছেন, স্বৈরাচার এরশাদের নিজের এবং তার দল জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা শুধু রংপুরেই। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনতো হয় সারাদেশে। তাই রংপুর দিয়ে এরশাদ যে বাজিমাতের কথা বলছেন তা শুধু ফাঁকাবুলি। ৩০০ আসনের বেশিরভাগ আসনেই তার জনপ্রিয়তা নেই এবং নেতাকর্মীদের সংখ্যা খুবই কম। এ অবস্থায় ১৪ দলীয় জোটে এরশাদ না থাকলেও তেমন একটা ক্ষতি হবে না। আবার স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি ও রাজাকার দল বলে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের অবস্থানও আগের মতো নেই। ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ নীতিতে চলছে দলটির নেতাকর্মীরা। বলা যায়, নিষ্ক্রিয়তার কারণে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জনপ্রিয়তা দিনদিন কমছে। এই শক্তি নিয়ে জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে না থাকলেই কি এসে যায়। বরং আওয়ামী লীগ এরশাদের জাপাকে ছেড়ে দিলে এবং বিএনপি জামায়াতকে বাদ দিলে বিরূপ সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা পাবে। এখন দুটো দলই এরশাদ ও জামায়াতের কারণে তীব্র সমালোচিত।
অনেক ভোটারই প্রশ্ন করছেন বিএনপি কি ভুলে গেছে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত কি করেছিল। আবার এরশাদকে নিয়ে একই প্রশ্ন আওয়ামী লীগকেও। তারা বলছেন, গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য অন্যদলের সঙ্গে তো আওয়ামী লীগও এরশাদকে স্বৈরাচার সরকার আখ্যায়িত করে তার পতনের জন্য জীবনবাজি রেখে আন্দোলন করেছিল। তাহলে এরশাদকে নিয়ে কেন জোট এবং কেনই বা ক্ষমতায় যাওয়া। ভোটাররা এখন জামায়াত ও এরশাদের জাপাকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির ক্ষমতার সিঁড়ি মনে করছে না। এমনই একজন ভোটার লুৎফুর রহমান। রাজধানীর এই বাসিন্দা পেশায় চাকরিজীবী। থাকেন আজিমপুরে। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতা ছাড়াও স্বৈরাচার হওয়ার কারণে এরশাদকে এবং রাজাকার হিসেবে জামায়াতকে নির্বাচনে গ্রহণ করতে অনীহা থাকে ভোটারদের। তাই এককভাবে ভোট করলে দলগুলোর ভরাডুবি হবে। হাতেগোনা কয়েকটি আসন পেয়ে না যেতে পারে ক্ষমতায়, না কাজে লাগবে অন্যদলের সরকার গঠনে। তাই কৌশলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আশ্রয় নিয়েছে দল দুটো। আর নিজেদের আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে বড় দলগুলো টানছে জাপা ও জামায়াতকে। কিন্তু ক্ষমতায় যেতে জাপা ও জামায়াত যতটা না সিঁড়ি হিসেবে কাজে লাগছে তার থেকে অনেকগুণ বেশি সমালোচিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নীতি বিসর্জনের কারণে। তাই এবার ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উচিত স্বৈরাচার ও রাজাকার দল দুটোকে বর্জন করে নিজের শক্তিতে নির্বাচন করা। তাতে ক্ষতির থেকে লাভ হবে অনেক বেশি।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরের ভোটার জিতু মিয়া বলেন, এরশাদ আগে গ্রামে খুব জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু সকালে এক কথা আর রাতে বোল পাল্টে আরেক কথা বলা শুরুর পর থেকেই তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে এবং দলের বাঘাবাঘা নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে চলে যাওয়ায় সাংগঠনিক শক্তিও কমে যায়। তিনি বলেন, এরশাদের জনপ্রিয়তা যে কমেছে তার প্রমাণ গত ইউপি নির্বাচনেও দেখা গেছে। এরশাদের বেশিরভাগ চেয়ারম্যান প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে চরম হারা হেরেছেন। হবিগঞ্জে এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর তুলনায় যোগ্যতার দিক থেকে সমপর্যায়ের হয়েও ২০০-র বেশি ভোট পাননি এরশাদের চেয়ারম্যান প্রার্থী, যারা জাতীয় পার্টির না হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করলেও অন্তত এক হাজারের বেশি ভোট পেতেন। অথচ তৃণমূলেই এরশাদের বেশি সমর্থক আছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, হবিগঞ্জে ভরাডুবি হলেও রংপুরসহ কিছু এলাকায় জাতীয় পার্টির হাতেগোনা কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছিলেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কেবল ইউপি নির্বাচনই নয়, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের পতনের পর রংপুর ছাড়া স্থানীয় হোক আর জাতীয় নির্বাচন হোক, এরশাদের প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে দূরে থাক, দল দুটোর অর্ধেক আসনও পায়নি কখনো। এরশাদ যত আসন পেয়েছেন তা দিয়ে না হয়েছে একক সরকার গঠন, না হয়েছে কোয়ালিশন সরকার গঠনে অত্যাবশ্যক। এরশাদের জাতীয় পার্টি ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯টি এবং ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচন করে ১৩টি এবং বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০টিসহ মোট ৩৩টি আসন পায়। তারপরও এরশাদকে জোটে এনে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। মজার ব্যাপার হচ্ছেÑ এই এরশাদকে স্বৈরাচার বলে তার পতনের জন্য আন্দোলনের অন্যতম ভূমিকা ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। যদিও এরশাদ পতনে বামপন্থিদের ভূমিকাও ছিল অসাধারণ। তবে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদকে আগের মতো গুরুত্ব দিয়ে চলতে নারাজ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতার মতে, ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে যে সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটার প্রয়োজন তা আর এখন নেই এরশাদ ও তার দল জাপার। তাই তাকে জোটে না রেখে একা ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তাতে বদনামের ভাগীদার হওয়া থেকে মুক্ত হওয়া যাবে এবং ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রেও অসুবিধা হবে না। এদিকে বিএনপিরও একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, জামায়াত আর আগের মতো বিএনপিকে সমর্থন করে না। তার প্রমাণ ২০ দলীয় জোটে থেকেও এককভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা। তাছাড়া লড়াই করার শক্তিও কমে গেছে দলটির। উল্টো জোটে রেখে দুর্নাম বয়ে বেড়াতে হচ্ছে বিএনপিকে। এ অবস্থায় জামায়াতকে ছাড়া নির্বাচন করলে ফল ভালো পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সমালোচনামুক্ত হওয়া যাবে।
সূত্র : আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১