আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রায় চার মাস পর পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছিল প্রথম স্প্যান। এবার ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারে বসতে যাচ্ছে দ্বিতীয় স্প্যান।
এই স্প্যানটি বসানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন বলে সেতু বিভাগ সূত্রে জানাগেছে। এ প্রসঙ্গে গতকাল সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা নদীর মাটির লেয়ারের ভিন্নতার কারণে ১৪টি পিয়ার লোকেশনে পাইলের নকশা চূড়ান্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে চলতি বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। ইতোমধ্যে সেতুর একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসে আরো একটি স্প্যান বসানো হবে। পাইল ড্রাইভিং ও পিয়ার কলামের পাশাপাশি অবশিষ্ট স্প্যানগুলো পর্যায়ক্রমে বসানোর মাধ্যমে চলতি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সেতু কর্তৃপক্ষের মাসিক অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর অগ্রগতি ৫২ শতাংশ। আর নদী শাসনের কাজের অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ২০ শতাংশ। অবকাঠামো উন্নয়ন, দুপাড়ে সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু এখন দৃশ্যমান। বাস্তব রূপ পেতে চলেছে এশিয়ার দীর্ঘতম পদ্মা সেতু।
সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। স্টিলের স্প্যানটির ওজন প্রায় ২ হাজার ৮০০ টন। এটি শক্তিশালী ক্রেন দিয়ে মাওয়া প্রান্ত থেকে নিয়ে জাজিরা প্রান্তের পিলারে বসানো হবে। আগের স্প্যানটিও জাজিরা প্রান্তে বসানো হয়। এ বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, কুয়াশার কারণে স্প্যান বসানোর কাজে কিছুটা ব্যাঘাত হয়েছে। তবে ১২টি স্প্যান প্রকল্প এলাকায় আছে। তৃতীয় স্প্যানটিও বসানোর মতো অবস্থায় আছে। এখন কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।