আকাশবার্তা ডেস্ক :
দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া লাউঞ্জে এই তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল ৫ ফেব্রুয়ারি। এদিন সকাল দশটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটা থেকে শেষ না পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ প্রত্যাহার ১০ ফেব্রুয়ারি।
সিইসি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবাই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে, তার প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে একজন সংসদ সদস্য থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হলেন সংসদ সদস্যরা। বর্তমান রাষ্ট্রপতি নিজেও ভোট দিতে পারবেন।’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলে এককপ্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করতে পারবে ইসি।
এর আগে বুধবার (২৪ জানুয়ারি) দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইস্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা।
সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি বলেছেন, ‘সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। ইসি সচিবালয় থেকে আমাদের কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমরা তা সরবরাহ করেছি।’
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. আবদুল হামিদ। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসোবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারবেন।
সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল। ফলে সংবিধান অনুযায়ী, ভোট হতে হবে ২৪ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের সপ্তম ধারায় বলা হয়েছে- নির্বাচনী কর্মকর্তা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন। প্রার্থী একজন হলে এবং পরীক্ষায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে ইসি। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
আইন অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের সই দিয়ে তা জমা দেবেন সাংসদরা। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদ কক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেওয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্তকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।