মঙ্গলবার ৩রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

বইমেলায় ফাগুনের আগুন : আজ ভালোবাসা দিবস

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


রাত পোহাতেই প্রকৃতির পালাবদলে হলুদ, সবুজ, লাল ও কমলা রঙের বাহারি সাজে বরণ করে নিলো ঋতুরাজ বসন্তকে। কোকিলের ডাক, ফুলের সুবাস আর গন্ধে প্রাণের বসন্তকে বরণ করতে রাজধানীতে ঢল নামে তরুণ-তরুণীদের। এদিকে ফাগুনের প্রথম দিন মানেই বইমেলায় মানুষের ঢল, ক্রেতার ঢল। বসন্ত বরণের ছোঁয়ায় জমজমাট হয়ে ওঠে বইমেলা। এছাড়া আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সকাল ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বরণ করা হয় বসন্তকে। গান, কবিতা আর সম্মেলক নৃত্যে শুরু হয় নাগরিক বসন্ত উদযাপন। এ সময় পারভেজ-সুশান্ত পরিবেশন করেন রাগ আহির ভৈরব। প্রভাতী রাগের আলাপ, গৎ- এর সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রের ধুনে ভোরের উৎসব পায় অন্য মাত্রা। ততক্ষণে বকুলতলার আনাচেকানাচে বসন্তের স্তুতি-গানে মেতে উঠেছেন নগরবাসী। কণ্ঠে কণ্ঠে তখন সেই গান- ‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে’। এরপর ধ্রুপদী নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসেন প্রিয়াঙ্কা প্যারিস গোমেজ। বসন্তের কবিতা আবৃত্তি করেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়। নার্গিস চৌধুরী পরিবেশন করেন ‘আমি পথভোলা পথিক এসেছি’ গানটি। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা শোনান দুটি গান। সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনান অতুল প্রসাদের ‘আয়রে বসন্ত’ গানটি। ‘দোল ফাগুনের দোল লেগেছে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন শর্মিলা বন্দোপাধ্যায় ও তার দল নৃত্যনন্দন।

পরে সামিনা হোসেন প্রেমা তার দল ভাবনাকে নিয়ে ‘আজি দখিন দুয়ার’ গানের সঙ্গে মঞ্চে পরিবেশন করেন একটি সম্মেলক নৃত্য। মণিপুরি নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসেন তামান্না রহমান ও তার দল নৃত্যম। গৌড়ীয় নৃত্য পরিবেশন করেন র‌্যাচেল প্রিয়াংকা প্যারিস। সাংস্কৃতিক পর্বের ফাঁকে সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, প্রতি বছরই তো আমরা এ নগরে বসন্ত উদযাপন করি। আমরা স্মৃতি রোমান্থন করি, কোথায় গেল সেই ফুলেল শৈশব আমাদের। উৎসবগুলো যে আমাদের মাটির কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি আরও বাড়িয়ে তুলে। তাই তো আজ রঙের উৎসবে সামিল হতে ছুটে আসছে নগরবাসী। বসন্ত উৎসবে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতিকে রক্ষার শপথও নেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জীবজন্তু, গাছপালা সবকিছু নিয়েই তো আমাদের এই শস্য-শ্যামল বসুন্ধরা। এই পৃৃথবীতে সকলের বেঁচে থাকার অধিকার। বসন্ত উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি আজ আমরা প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার শপথ নেই। উদীচীর সহ-সভাপতি সংগীতা ইমাম বলেন, আজ খুব করে চাইব যেন রঙ যেন সকলের মর্মে লাগে। প্রাণ প্রকৃতিকে রক্ষার শপথ নিয়ে আমরা চাইবো সর্বস্তরে যেন বসন্তের রঙ লাগে, রঙ লাগুক আমাদের নাগরিক চেতনায়। আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দোপাধ্যায় বলেন, ঋতু উৎসবের মধ্যে বসন্ত উৎসবের মর্ম একেবারেই আলাদা। বছরের শেষ ভাগের এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন এক বাংলা বর্ষ উদযাপনের অপেক্ষায় থাকি। নগরে বসন্ত উদযাপন প্রতি বছর নতুন মাত্রা পায় তরুণের কোলাহলে। তাদের কণ্ঠে যখন মাটির কাছে ফেরার গান শুনি, তখন সত্যি মনে হয়, এই তো উৎসবের সার্থকতা।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, বসন্ত উৎসব হয়ত অন্য অনেক দেশেই উদযাপিত হবে। কিন্তু ষড়ঋতু সবখানে এত স্পষ্ট নয়। ঋতু বৈচিত্র্যের দেশে ঋতু উৎসবে এসে আমরা শপথ নেই- আমরা প্রকৃতি রক্ষা করে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলব। সম্প্রীতির বন্ধনে একে অপরকে বাঁধব।

বসন্তকে বরণ করে নিতে গ্রাম বাংলায় মেলা, সার্কাসসহ বাঙালির নানা আয়োজনের সমারোহ ছিলো। ভালোবাসার মানুষেরা মন রাঙাবে বাসন্তী রঙ্গেই। শীতের সঙ্গে তুলনা করে চলে বসন্তকালের পিঠা উৎসবও। তরুণীরা বাসন্তী রঙয়ের শাড়ি পরে প্রকৃতির কোলে নিজেকে সপে দিয়েছে। আর বসন্তের উদাস হাওয়ায় তরুণেরা নিজেকে প্রকাশ করবে প্রেমে প্রেমে। বসন্ত যেন মানবমন আর প্রকৃতির রূপ প্রকাশের লীলা-খেলা।

তরুণ-তরুণীদের এই উচ্ছ্বাস শুধু বসন্ত বরণ পর্যন্ত থেমে থাকেনি। এই উৎসবের আমেজ পড়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ও। এদিন দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে জমাজমাট হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। নানান বয়সী দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলার স্টলগুলো। এদিন ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে দেখা গেছে হাসি।

বিক্রেতারা জানান, এবারের মেলায় আজ বিক্রি বেড়েছে। সারাদেশ থেকেই মেলায় মানুষ এসেছেন বই কিনতে। আজ বসন্তের প্রথম দিন হওয়ায় দর্শনার্থী বেড়েছে। লেখক, প্রকাশক, কবি, সাহিত্যিক, দর্শনার্থীর সম্মেলনে মেলা সাজে নতুন রূপে। লেখককুঞ্জ আজই প্রথম খোলা হয়েছে। সেখানে সারাদেশ থেকে আসা লেখকরা বসে আড্ডায় মগ্ন ছিলেন।

সাদিয়া সিদ্দিকী নামের এক দর্শনার্থী বলেন, আজ বসন্তের প্রথম দিন হওয়ায় মেলায় ভিড় বেশি। সবাই বসন্ত বরণ করতে মেলায় এসেছেন। বসন্তের প্রথম দিনে মেলায় না আসলে, বসন্ত যেন পানসে হয়ে যায়। তাই বন্ধুদের সাথে মেলায় এসেছি। পছন্দের কয়েকটি বই কিনবো। তারপরে জামপেশ আড্ডা দিবো। আশা করছি দিনটা ভালোই যাবে।
গ্রন্থমেলা কেবল মেলাই নয়, এটি বাঙালির উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ। বসন্তবরণ হোক কিংবা ভালোবাসা দিবস অথবা একুশে ফেব্রুয়ারি। একবার বইমেলায় না এলে কোনো দিবসই যেন জমে ওঠে না। বইপ্রেমীদের অনেকেই এসব দিবসকে কেন্দ্র করেই সাজিয়ে নেন পরিকল্পনা, প্রস্তুত রাখেন বইয়ের তালিকা।

এছাড়া আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’। তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি।

তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের মাঝেও ভালোবাসা দিবস পালিত হবে। ভালোবাসার উৎসবে মুখর হবে পুরো দেশ। এ উৎসবের ছোঁয়া লাগবে গ্রাম-বাংলার জনজীবনেও। মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় হয়ে উঠবে পল্লবিত। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায়। পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১