মঙ্গলবার ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন

কত দিন চলবে আন্দোলন?

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে গত ২৯ জুলাই বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় হঠাৎই উত্তাল হয়ে উঠেছে সারাদেশ। সড়ক অবরোধ করে ৯ দফা দাবিতে গত কয়েকদিন যাবত চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। দেশ অচল হওয়ায় কর্যত অর্থনীতিও পড়েছে বড় ক্ষতির মুখে। সরকারও পড়েছে দুর্ভাবনায়। কিভাবে বন্ধ করা যায় এ আন্দোলন ? সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও দিন দিন এ আন্দোলন আরও বিস্তৃত লাভ করেছে দেশজুড়ে। আর এতেই সমস্যায় পড়েছে সরকারের নীতিনির্ধারকরা। কিন্তু কোন সংগঠন বা নেতৃত্ব ছাড়াই কত দিন চলবে এ আন্দোলন ? সরকারের নীতি নির্ধারকসহ এ প্রশ্ন সর্বত্র।

একটি সূত্র জানায়, কোন সংগঠক বা নেতৃত্ব না থাকলেও আন্দোলনটি চলছে ফেসবুকের একটি ইভেন্টকে ঘিরে। ঘটনার পরদিনই খোলা হয় ইভেন্টটি। ইভেন্টে ঘেটে জানা গেছে, ইভেন্টটি খোলা হয় গত ৩০ জুলাই। দেশের পরিবহণ খাতের নৈরাজ্য বন্ধে শিক্ষার্থীরা ইভেন্টটি খুলেছে বলে জানা যায়। যেখানে আন্দোলনের সম্ভাব্য তারিখ দেয়া হয় ৩১ জুলাই থেকে আগামি ৫ আগস্ট পর্যন্ত। তবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ হওয়ার তারিখ নিশ্চিত নয় বলে দাবী করেন।

তারা বলেন, আমাদের দেয়া দাবী যদি সরকার এখন মেনে নেয়, তাহলে এখনই ক্লাসে ফিরে যাবো। আন্দোলন বন্ধ করা তারিখ সুনির্দিষ্ট নয়। আন্দোলনে আমরা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছি। পরিবহণ সেক্টর আজ বেসামাল হয়ে পড়েছে। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব এখনই বন্ধ করা না গেলে এটি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বাড্ডায় সড়ক অবরোধ করেছে গুলশান কমার্স কলেজের শিক্ষার্থীরা। কথা হয় আন্দোলতরত মাহফুজুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর সাথে।

তিনি বলেন, আমরা প্রায় প্রতিদিনই পরিবহণ শ্রমিক দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। এটা সরকার জেনেও চুপ করে বসে আছে। কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নৌমন্ত্রীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মানুষ মারার পরও তারা বহাল তবিয়তে থাকছে। কত দিন চলতে পারে এ আন্দোলন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যতদিন সরকার আমাদের দেয়া ৯ দফা দাবি মেনে না নিবে ততদিন এ আন্দোলন চলবে। সরকার আমাদের দাবি মেনে নিলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো বলে তিনি জানান।

ইকরা আক্তার নামের ইম্প্রিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, আমার ভাই-বোনের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না। নিহতে ঘটনা জেনে নৌ-মন্ত্রীর হাসি আমাদের রক্তে আগুন লাগিয়েছে। তার পদত্যাগ ও সকল দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি আরো বলেন, আমরা সঠিক বিচার চাই। আইনের ফাঁক গলে যেন খুনিরা বের হয়ে যেতে না পারে সেজন্য আমরা আন্দোলনে নেমেছি। প্রতিবারই চালকরা আমাদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার পর আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে যায়। আমরা এবার আইনের শাসন নিশ্চত করে ক্লাসে ফিরবো।

আমার ভাইয়ের রক্ত আর বৃথা যেতে দিবো না। গণপরিবহণের এ নৈরাজ্যের শিকার রাজধানীর সকল বাসিন্দা। আন্দোলনটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তায় পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। কিন্তু কারো মুখেই হতাশা ছিলো না। সবাই গণপরিবহণ নৈরাজ্য বন্ধে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন।

রামপুরায় কথা হয় বেসরকারি চাকরীজীবি মোহাম্মদ রফিকের সাথে। তিনি বলেন, পরিবহণের নৈরাজ্য বন্ধ হওয়া দরকার। সরকার বিষয়টিতে এতোদিন উদাসীন ছিলো বলে আজ এ অবস্থা। এখন সময় হয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার। ভোগান্তিতে পড়লেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আমার সমর্থন রয়েছে বলে তিনি জানান। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বোধের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, কোমলমতী শিশুরা শৃঙ্খলার যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে তা বাংলাদেশ কখনও দেখাতে পারেনি। এজন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০