সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

সোজা কথা, ড. কামাল রাজাকার : বিচারপতি মানিক

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন একজন রাজাকার। শুক্রবার (০২নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনায় এই মন্তব্য করেন এই বিচারপতি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নে গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিরোধে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আওয়ামী লীগ ছাড়েন কামাল হোসেন। গড়ে তোলেন নিজের রাজনৈতিক দল গণফোরাম। এখন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত সরকারবিরোধীদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

এক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার লেখা থেকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “সোজা কথা, কামাল হোসেন একজন রাজাকার।” যুক্তি হিসেবে মানিক বলেন, ‘১৯৭১ সালে ড. কামাল হোসেন দেশে ছিলেন না। ২০০৮ সালে একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানের মেজর জেনারেল মির্ছা খানকে ফোন করে (কামাল হোসেন) দেশ থেকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। ২৯ মার্চ ডিভিশনাল হেড কোয়াটার থেকে কামাল হোসেনকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেন ওই মেজর জেনারেল। পরে পাকিস্তান থেকে ইয়াহিয়া খান ড. কামাল হোসেনকে দেশে পাঠান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেয়া। আর এই ফাঁসি দেয়ার ষড়যন্ত্র পূর্ণাঙ্গ করতে সাক্ষী হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ড. কামাল হোসেনকে।’

মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় ড. কামাল হোসেন ছিলেন পাকিস্তানে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বিমানে করে দেশে ফেরেন একই বিমানে ছিলেন ড. কামালও। দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু তাকে প্রধান করেই সংবিধান প্রণয়ন কমিটি করেন। প্রথমে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এবং পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় ড. কামালকে।

বিচারপতি মানিক বলেন, ‘আইএসআই একটি করিৎকর্মা গোয়েন্দা সংস্থা। যখন বঙ্গবন্ধুকে তারা দেশে পাঠায়ে দেয়, তখন একই প্লেনে কামাল হোসেনকে উঠিয়ে দেয়া হয়। এই হচ্ছে কামাল হোসেনের ইতিহাস। উনি একজন রাজাকার, সোজা কথা ড. কামাল হোসেন একজন রাজাকার।’

কামাল হোসেনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ছেদ হয় ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর। তিনি গঠন করেন গণফোরাম। রাজনীতিতে কিছু করতে না পারলেও সম্প্রতি তিনি আলোচনায় এসেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করে। এই ফ্রন্টে বিএনপি প্রধান দল হলেও প্রধান নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন ড. কামালই।

বিচারপতি মানিক বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন আজ কাদের সাথে আঁতাত করেছে? মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের সাথে আঁতাত করছেন। আমি আশ্চর্য হইনি এই জন্য যে কামাল সাহেব তো তাদেরই একজন।’

বিএনপির সঙ্গে কামাল হোসেনের জোট বাঁধার প্রসঙ্গ টেনে মানিক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করছেন। যারা গ্রেনেড মেরে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের সাথে আজ কামাল হোসেন আঁতাত করেছেন। “আমি আশ্চর্য হইনি এজন্য যে কামাল হোসেন নিজেও তো তাদেরই একজন। সেদিন একজন (বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মাদ ফরাসউদ্দিন) বলেছেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যায় কামাল হোসেন জড়িত ছিল এই মর্মে এভিডেন্স পাওয়া যাচ্ছে, কথাটা উনি কিন্তু ভুল বলেননি, উনি সেই সময় বঙ্গবন্ধুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।”

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মামলা লড়া আইনজীবীদের একজন কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধের সময় কীভাবে বন্দি হলেন, কেন তাকে পাকিস্তানে নেওয়া হল- সেসব বিষয়ে ভিন্ন একটি পাঠ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক অনুষ্ঠানে হাজির করেন মিট্টা খা নামের এক পাকিস্তানি জেনারেলের লেখা থেকে উদ্ধৃত করে। তবে সেই পাকিস্তানি জেনারেলের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দেননি।

মানিক বলেন, “মিট্টা খা ২০০৮ সালে ডিফেন্স জার্নাল নামে একটি ম্যাগাজিনে লিখেছেন, (একাত্তরের) ২৮ মার্চ কামাল সাহেব মিট্টা খাকে ফোন করে বলল, ‘সবাইতে তো চলে গেছে ভারতে, আমি যেতে চাই না, আমি মুক্তিযুদ্ধ-টুদ্ধ করব না, কিন্তু আমাকে ওই মুক্তিযোদ্ধারা মেরে ফেলবে, আমাকে দয়া করে রক্ষা করুন। মিট্টা খান তাকে ডিভিশনাল হেড কোয়ার্টারে নিয়ে আশ্রয় দিয়েছেলেন, প্রোটেকশন করেছিলেন এবং ২৯ মার্চ কামাল সাহেবকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

“তিনি আরও লিখেছেন, পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর উনি প্রতি মাসে কামাল সাহেবের সঙ্গে দেখা করতেন। কামাল সাহেব তখন তার শ্বশুর এবং তার সম্পর্কে শ্বশুর এ কে বদি আল্লাহবক্স-খোদাবক্স, খুব নাম করা উকিল ছিলেন, তার সঙ্গে প্র্যাকটিস করতেন।”

গত অগাস্টে অর্থনীতি সমিতির এক অনুষ্ঠানে সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের বক্তব্যের সূত্র ধরে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মানিক বলেন, “ফরাসউদ্দিন সাহেব বলেছেন সেদিন, কামাল হোসেনকে ওখানে (পাকিস্তানে) রাখা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার জন্য। কারণ তারা সব ঠিক-ঠাক করেছিল বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেবে এবং এই ফাঁসি দেওয়ার জন্য সাক্ষী দরকার ছিল। কামাল হোসেনকে সাক্ষীর জন্য রেখেছিল।

“আইএসআই অত্যন্ত করিৎকর্মা একটি গোয়েন্দা সংস্থা, যখন আবার বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হল তখন আবার কামাল সাহেবকে সেই প্লেনে উঠিয়ে দিয়েছে। এই হল কামাল হোসেনের ইতিহাস, উনি একজন রাজাকার।”

তার এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে কামাল হোসেনের দল গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “এগুলো সবই মিথ্যা। বন্দি করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে (কামাল হোসেন) হরিপুর জেলে রেখেছিল, সেখানে বিচার হচ্ছিল উনার। তারপর বঙ্গবন্ধু তো ভুট্টোকে বলে উনাকে (কামাল) সঙ্গে নিয়ে দেশে আসেন। এগুলো জানে সবাই। (বিচারপতি মানিক) খামোকা বলছেন এসব।”

বিচারপতি মানিকের দিকে ইংগিত করে সুব্রত বলেন, “জ্ঞানপাপীদের কথার কোনো উত্তর দেওয়ার দরকার নেই। এগুলো ননসেন্স। এগুলোর উত্তর দেওয়ার দরকার নেই। এগুলো চাইল্ডিশ কথাবার্তা, বালখিল্যপনা।”

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের আলোচনা সভায় সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানেরও সমালোচনা করেন সাবেক বিচারপতি মানিক।

“কথাটা কিন্তু আমি অনেকের কাছ থেকে শুনেছি, উনি তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণই করেননি। এটা আজকে স্পষ্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল নকশা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। দেশকে আবার পাকিস্তান বানানোর সমস্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছেন, রাজকারদের মন্ত্রী বানালেন।”

স্বাধীনতাবিরোধীদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করায় জিয়াউর রহমানের তীব্র সমালোচনা করে মানিক বলেন, “আমি বলব জিয়াউর রহমান এদেশের নম্বর ওয়ান রাজাকার। এই কুখ্যাত রাজাকারের মরণোত্তর বিচারের সিস্টেম যেহেতু আইনে নেই, তাই আমার দাবি থাকবে অন্তত তদন্ত করা হোক পঁচাত্তরে ও তারপরে জিয়াউর রহমানের কী ভূমিকা ছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যায় তার কী ভূমিকা ছিল, এটা তদন্ত হলে ইতিহাসে রেকর্ড থাকবে।”

এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বক্তব্যের বিষয়ে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930