আকাশবার্তা ডেস্ক :
গ্রিনলাইন বাসের ধাক্কায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ ক্ষতিপূরণের যে আদেশ হাইকোর্ট দিয়েছে এর কিছু টাকা বুধবার (১০ এপ্রিল) বিকাল তিনটার মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। না করলে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।
রাসেলের পা হারানোর ঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনজীবী উম্মে কুলসুমের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট এক আদেশে দুই সপ্তাহের মধ্যে রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দিতে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে প্রয়োজন হলে তার পায়ে অস্ত্রোপচার এবং কাটা পড়া বাঁ পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর খরচ দিতে ওই পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।
তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে গ্রিন লাইন পরিবহন আপিল বিভাগ আবেদন করে। তবে আপিল আবেদনটি গত ৩১ মার্চ খারিজ করে আদালত। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকে। তবে পা হারানো রাসেলের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কেউ যোগাযোগ করেনি। ওই আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আজ বুধবার হাইকোর্টে শুনানির দিন ধার্য ছিল। সেখানে আজকের মধ্যে কিছু টাকা পরিশোধের নির্দেশনা আসে।
এর আগে বেলা ১১ টায় হাইকোর্টে হাজির হন পরিবহনটির মালিক মো.আলাউদ্দিন। এসময় গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, মো, আলাউদ্দিন বয়স্ক ও অসুস্থ। তার পক্ষে বারবার আদােলতে আসা সম্ভব না। রাসেলের ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে আরও এক মাসের সময় চান তিনি।
আদালত বলেন, ‘এটা তো কোন দুর্ঘটনা না । ছেলেটাও একটা চালক। তার একটা পা চলে গেলে । আপনারা একবারও তার খবর নিলেন না। মানবিক একটা দিক বলেও কিছু আছে। ছেলেটা হাসপাতালে চিকিৎসা নিল। একটা পা কাটা পড়েছে আরেকটা পা চলে যাওয়ার পথে। আপনারা কোনো খোঁজখবর নেননি। আপনারা আপনাদের কাজ করেন, এরপর আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। আমরা আমাদের মতো আদেশ দেবো।
আপনারা দুপুর ৩টায় আবার আদালতে আসেন। এই সময়ের মধ্যে কিছুটা হলেও রাসেলকে ক্ষতিপূরণ দিতে গ্রিনলাইনের মালিককে মৌখিক নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্ট বলেন, যতটুকু পারেন, ক্ষতিপূরণ দেন।’
গত ১২ মার্চ রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়ীতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই যুবককে চাপা দেওয়ার পর গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসটি এবং তার চালককে পুলিশ আটক করে।
পরে পুলিশ জানায়, মো. রাসেল (২৫) নামের ওই যুবক একটি প্রাইভেটকার চালাচ্ছিলেন। বাসটি তার গাড়িকে ধাক্কা দিলে প্রতিবাদ জানাতে বাস থামাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাস চালক তার উপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে রাসেলের বা পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ির বাসিন্দা রাসেল রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন। রাসেলের পা হারানোর ঘটনার পর গত বছরের ১৪ মে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম।