আদালত প্রতিবেদক :
ফেসবুকে ভাতিজিকে বিরূপ মন্তব্য করায় সাইবার মামলায় চাচা জিয়াউদ্দিনের জামিন নাকচ করেছেন আদালত। ভাতিজিকে নাস্তিক, যৌনকর্মী, পতিতা ও ভারতে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগে মামলায় দায়ের করেন একটি এনজিও’র প্রধান নির্বাহী।
আসামির আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করলে সাইবার ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ এর বিচারক আস-সামছ জগলুল হোসেন শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করেন। এ আসামি ৭ এপ্রিল সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের হাতে আটক হয় । পরে আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে প্রেরণ করেন। আদালত সেইদিন কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
(আজ) মঙ্গলবার আসামিপক্ষ এ আদালতে পুনরায় জামিনের জন্য আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করেন। আসামির বাড়ি কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সদর থানায়। মামলাটিতে বাদীর চাচী ফারহানা আলী মৌও আসামি। সে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে রয়েছেন।
উল্লেখ্য- মামলার বাদী একটি এনজিও’র প্রধান নির্বাহী। তিনি ২০১৭ সালের ২০ মার্চ ঢাকায় একটি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয় গত ১৯ মার্চ বাদী মোবাইল ফোনে দেখতে পান, আসামিরা ফেসবুকে তার সম্পর্কে মানহানি ও আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে আসামিরা বাদীকে নাস্তিক, যৌনকর্মী, পতিতা বলে অভিহিত করেন। এছাড়া তারা বাদীকে ভারতে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সঙ্গেও তুলনা করেন।
গত ৮ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত আসামিরা ওই পোষ্টগুলো করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৮ সালে ১ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেয়। আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। সেমতে গত ৭ এপ্রিল আসামী গ্রেপ্তার হয়। মামলাটি চার্জগঠনের জন্য আগামী ২১ আগষ্ট শুনানির দিন ধার্য আছে।
মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়-আসামিরা বাদীর আপন চাচা-চাচী। সম্পত্তি, ধর্মীয় মতাদর্শ ও পারিবারিক কলহের জের ধরে বহুদিন তাদের মধ্যে বিরোধ চলমান। মামলার বাদী প্রগতিশীল ও নারী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। আসামিরা ভিন্ন মতাদর্শী। ফলে তারা ভাতিজির কাজের ঘোরবিরোধী হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে মানহানি ও আপত্তিকর স্ট্যাটাস পোষ্ট করেন।