বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

লক্ষ্মীপুরে কোচিং বাণিজ্য : নীতিমালা মানছেন না শিক্ষকরা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

কোচিং বাণিজ্য বন্ধের লক্ষ্যে সরকার ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ প্রণয়ন করেন। এই নীতিমালায় শিক্ষকরা নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারবেন না, বিদ্যালয় চলাকালীন কোচিং না করানোসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং দিকনির্দেশনা আরোপ করা হয়েছে।

নীতিমালাটি প্রণয়নের পর তা কার্যকর করার জন্য প্রথম প্রথম প্রশাসন বেশ তৎপর থাকলেও এখন তা কার্যকর হচ্ছেনা। আর এই নীতিমালা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।

সে সময় মনিটরিং কমিটির সভাও হতো। কিন্তু এখন সেই তৎপরতা নেই। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে এখন ক্লাস হচ্ছে দায়সারা গোছের। যে কারণে শিক্ষকদের বাসায় বাসায় গিয়ে পড়া আর কোচিং ক্লাসে ভর্তি হওয়া ছাড়া শিক্ষার্থীদের কোনো বিকল্প নেই।

শুধু তাই নয়, একই বিদ্যালয়ের একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষকের মধ্যে একটা ঠান্ডা লড়াই চলে শিক্ষার্থী ভাগানোর ক্ষেত্রে। আর এটা করতে গিয়ে ক্লাস পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার একটা প্রবণতাও কাজ করছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। যে ছাত্র-ছাত্রী কোচিং বা প্রাইভেট পড়বেনা। সেসব ছাত্র-ছাত্রীকে ক্লাস পরীক্ষায় ফেল করানোর অভিযোগ রয়েছে ভুরি ভুরি।

লক্ষ্মীপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীক অন্তত শতাধিক কোচিং সেন্টার রয়েছে। উপজেলা সদর এবং গ্রামেও এখন কোচিং বাণিজ্য সেন্টার গড়ে উঠেছে। এসব কোচিং প্রতিষ্ঠান সরকারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়াল খুশিমত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

প্রত্যেক উপজেলায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধ সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা মনিটরিং কমিটি গঠন করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু যথাযথ মনিটরিং না থাকায় শিক্ষকদের কোচিং আর প্রাইভেট বাণিজ্য বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।

এছাড়া শিক্ষকেরা প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কিনতে বলছেন নানা প্রকাশনীর গাইড আর নোট বই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাইভেটের আরেকটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পাবলিক পরীক্ষার খাতা দেখার ক্ষেত্রে।

প্রাইভেটের ব্যস্ততায় শিক্ষকরা এতই মশগুল থাকেন যে, পাবলিক পরীক্ষার খাতাগুলোও তারা মনোযোগ সহকারে দেখেন না বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ। এর প্রমাণ হিসেবে তার বলছেন, এখন পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবার পর দেখা যায়, অনেক ভালো ছাত্র খারাপ রেজাল্ট করেছে।
এরপর তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ফি’ দিয়ে আবেদন করার পর পুনঃনিরীক্ষণে দেখা যায়, রেজাল্টের উন্নয়ন হচ্ছে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি বেসরকারি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারবেন না। শুধু প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিয়ে অনধিক ১০ জন শিক্ষার্থীকে অন্য যে কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। তবে ওই শিক্ষার্থীর নাম, রোল নং, শ্রেণি উল্লেখ করে আগেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে জমা দিতে হবে। কিন্তু এই নীতিমালা লক্ষ্মীপুরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর নেই।
এর মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন, ক্যাডেট স্কুল এবং মাদ্রাসাগুলোতে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা মালিকপক্ষ নিজেদের খেয়াল খুশিমত মাসিক বেতন নির্ধারণ, কোচিং করানোর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যথাযথ মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০