বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
শিশু সোহানার ছবি।

‘মা যাচ্ছেন কবরে, শিশুটি যাবে কোথায়?’

আকাশবার্তা ডেস্ক :

ফরিদপুর হাসপাতালে গত শনিবার ভর্তির তিন ঘণ্টার মধ্যে শিশু সোহানার মা’ সৌখিন মারা যান। হাসপাতালের খাতায় পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের স্বজনদের পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে ‘মা যাচ্ছেন কবরে, শিশুটি যাবে কোথায়?’ এ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে সোহানা এবং সৌখিনের স্বজনদের পরিচয় পাওয়া যায়। সোহানার বাবার নাম এসএম সোহাগ (৩৫)। নারায়ণগঞ্জের বন্দর বাজারের কাছেই তাদের বাড়ি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, সোহানার বাবা-মামা নিতে না চাইলে তাকে সরকারিভাবে ঢাকায় ‘ছোট মণি নিবাসে’ পাঠানো হবে।

সোহানার ১৪ বছর বয়সী এক ভাই আছে। নাম সোহাদ। সে ফরিদপুর শহরের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে। তাদের মা সৌখিন ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের মৃত ফারুক বিশ্বাসের মেয়ে। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট সৌখিন।

সৌখিনের চাচা ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, সৌখিন পরিবারের অমতে বিয়ে করায় স্বজনেরা ওই বিয়ে মেনে নেননি। পরে স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটলে তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু পরিবার তাকে গ্রহণ করেনি।

সৌখিনকে ফুফাতো বোন দাবি করে সৌখিনের স্বামী সোহাগ মুঠোফোনে বলেন, ২০০১ সালে তারা সৌখিনের পরিবারের অমতে বিয়ে করেন বলে ওই পরিবার তাদের মেনে নেয়নি। সোহাগের দাবি, ‘সৌখিনের সঙ্গে আমার বনিবনার কোনো সমস্যা ছিলনা। দুইমাস আগে সৌখিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাড়িতে যায় সম্পত্তির হিসাব নিতে।’ সোহাগ অভিযোগ করেন, সৌখিন বাড়িতে গেলে তার ভাই সোহাগ বিশ্বাস মারপিট করে সৌখিনকে তাড়িয়ে দেন। পরে সৌখিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোহাগ বলেন, ‘আমি ফরিদপুর যাচ্ছি, আমি এ ব্যাপারে সোহাগ বিশ্বাসের নামে মামলা করব।’

এ অভিযোগ প্রসঙ্গে সৌখিনের ভাই সোহাগ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার সঙ্গে দীর্ঘকাল সৌখিনের দেখা হয়নি। আমি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। দুইবছর আগে দেশে ফিরেছি। এ অভিযোগ সঠিক নয়। ডিসি সাহেব আমাকে কাল তার কার্যালয়ে ডেকেছেন। আমার যা কথা, তা ডিসি অফিসেই বলব।’

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ‘সোমবার বিকেলে শিশু সোহানাকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত ছোট মণি নিবাসে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে আমার কার্যালয়ে সভা করেছিলাম। ওই সময় শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে আজাদ অটো ওয়ার্কশপের মালিক মো. আজাদ ১৪ বছরের এক ছেলেকে নিয়ে হাজির হয়ে জানান, এই ছেলেটির নাম সোহাদ। সে শিশু সোহানার ভাই। তার ওয়ার্কশপে কাজ করে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ওই সময় শিশু সোহানাও তার ভাইকে চিনতে পারে। আমরা মোবাইলে সোহাদের বাবা ও মামার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের ফরিদপুর আসতে বলেছি। তাদের সঙ্গে আলাপ করে শিশুটিকে কার হাতে তুলে দেওয়া যায়, সে সিদ্ধান্ত নেব। যদি বাবা ও মামা শিশুটিকে গ্রহণ করতে রাজি না হন, তাহলে সরকারিভাবে শিশুটিকে ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত ছোট মণি নিবাসে স্থানান্তর করা হবে।’

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ফরিদপুরে আসার পর সৌখিন তার বাবার পরিবারে গেলে তারা গ্রহণ করেননি। অসুস্থ সৌখিন একটি ওয়ার্কশপে তার ছেলেকে রাখেন; আর নিজে মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা শুরু করেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নাজিমউদ্দিন আহমেদ জানান, শিশুটির মা’ সৌখিনকে সোমবার বিকেলে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ফরিদপুর শহরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০