মঙ্গলবার ২রা জুন, ২০২৬ ইং ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

জিবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী, সাহায্য কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স শেষবর্ষের ছাত্র নুর মোহাম্মদ সোহাগ (২৩)। এসএসসি পাশ করার পর থেকেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পড়ালেখার পাশাপাশি স্বেচ্ছায় পথশিশু ও অসহায় মানুষদের কল্যাণে কাজ করেন। অসংখ্য মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সময়-অসময়ে ছুটে গিয়ে রক্তদান করেছেন। কিন্তু আজ গুলেন বারি সিনড্রোম (জিবিএস) ভাইরাস নামে ভয়ংকর এক রোগে আক্রান্ত হয়ে সোহাগ নিজেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে আছে।

সোহাগ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ এলাকার ছৈয়দ আহম্মদের বড় ছেলে। তার বাবা একজন কৃষক। তিনি বয়সের ভার আর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। সোহাগ কর্মজীবন শুরু করে সংসারের ভার কাঁদে নেবে, এটাই ছিল তার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো।

হঠাৎ করে গত রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহাগের বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এরপর দুই দিন কিছুটা ভালো থাকলেও বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) তার অবস্থার অবনতি ঘটে। ‘দুই পা যেন অবশ হয়ে যাচ্ছে’, এমনটাই মা-বাবাকে বলেছিলেন সোহাগ। পরে তাকে রায়পুর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক সোহাগের রোগ নির্ণয় করতে পারেন। এটা জিবিএস ভাইরাস জনিত রোগ। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

সোহাগের ছোট ভাই ইলিয়াছ হোসেন চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, জিবিএস ভাইরাস নামক রোগের চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু এ রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলেও রোগীকে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। সোহাগের চিকিৎসার জন্য অন্তত ১০ লাখ টাকা লাগবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে উপার্জনক্ষম সন্তানের অসুস্থতায় ভেঙে পড়েছেন সোহাগের অসহায় মা-বাবা। তাদের পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই সোহাগকে বাঁচাতে সকলের কাছে আর্থিক সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছেন তারা ।

জানা গেছে, ব্লাড ফর বাংলাদেশ, রায়পুর ব্লাড ব্যাংক ও রায়পুর ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন নুর মোহাম্মদ সোহাগ। দীর্ঘদিন ধরে পথ শিশু ও অসহায় মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছায় কাজ করছিলেন তিনি। বর্তমানে সোহাগের অসুস্থতা ও তার পরিবারের অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা মর্মাহত। তারা চায় সোহাগ বেঁচে থাকুক। তাই মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সোহাগের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এছাড়াও ঢাকায় চিকিৎসা নিতে বিভিন্নভাবে অনেকেই সোহাগ ও তার পরিবারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০