সর্বশেষ:

মর্গ-কবরস্থানে ঠাঁই নেই, পুড়ানো হচ্ছে মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনের হুবই প্রদেশ থেকে উদ্ভূত নভেল করোনাভাইরাসে দেশটিতে এ পর্যন্ত তিন হাজার ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে চীনে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও ইতালিতে মৃতের সংখ্যা চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

দেশটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৪০৫ জনের। সেদেশে মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই কয়েকশো হারে বাড়ছে। এসব মরদেহে উপচে পড়ছে দেশটির মর্গগুলো। দাফনেরও জায়গা নেই ইতালির কবরস্থানগুলোতেও। আর তাই মরদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার।

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, কবর দেয়ার স্থান সংকুলান না হওয়ায় গত বুধবার রাতে ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় লোম্বার্ডির বারগামোর শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় শত শত কফিন। এতে ব্যবহার করা হয় সেনাবাহিনীর ১৫টি ট্রাক। এসব ট্রাকে করে শহরের একটি কবরস্থান থেকে দাফনের জন্য অন্য অঞ্চলে নেয়া হচ্ছে করোনা আক্রান্তদের মরদেহ। এদিকে ট্রাকে করে মরদেহ সরানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ইতালীয় এই ভিডিওকে ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ ছবি’ বলে অভিহিত করেছেন।

এ নিয়ে ইতালি লোম্বার্ডি অঞ্চলের ব্রেসকিয়া শহরের চিয়ারি হাসপাতালের পরিচালক জিন পিয়েরে রাম্পোনি বলেন, আমরা চীনের ছবিগুলো দেখে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম কিন্তু এমন চিত্র ভয়াবহ চিত্র দেখবো সেটি ভাবিনি।

এদিকে ইতালির বারগামো শহরের মেয়র গিয়োরগিয়ো গোরি বলেন, মৃতের আসল সংখ্যা আরো বেশি কারণ করোনার লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া অনেক মৃতের শরীরে ভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়নি। বারগামো শহরের মেয়র আরো বলেন, ২৪ ঘণ্টাই মরদেহ পুড়ানো হচ্ছে, একদিনে ২৫টির মতো মরদেহ পুড়ানো যায়। পুড়ানোর পর ছাইগুলো আবার যে এলাকা মরদেহ থেকে এসেছে সেখানে ফিরিয়ে দেয়া হবে।

ইতালিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪১ হাজার জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৩ হাজার ৪শ ৫ জন । সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে লোম্বার্ডি অঞ্চলে। এখানে মারা গেছেন ৩১৯ জন। মহামারী মোকাবেলায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইতালি অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছে। মানুষ ঘরবন্দি থাকলেও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে স্বাভাবিক ও নিয়মিত মৃত্যু। ফলে অতিরিক্ত লাশ দাফন করতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয়রা।

সারাবিশ্বে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দশ হাজার ৪৬ জনে দাড়িয়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930