সর্বশেষ:

পদ্মাসেতুর সর্বশেষ খুঁটির কাজ শেষ!

আকাশবার্তা ডেস্ক :

স্বপ্নের পদ্মাসেতুর মোট খুঁটির সংখ্যা ৪২টি। তার মধ্যে একটু আগেই সর্বশেষ খুঁটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু বাকি ১৪টি স্প্যান বসানোর কাজের। এই ১৪টি স্প্যানের কাজ শেষ হলেই পুরোপুরি দেখা যাবে স্বপ্নের পদ্মাসেতু।

এর আগে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে পদ্মাসেতুর ৪২ নম্বর খুঁটির ওপরের অংশের ঢালাই শুরু হয়। একটু আগেই সন্ধ্যায়ই এর পুরো কাজ শেষ হয় বলে জানিয়েছেন সেতু প্রকৌশলীরা।

তারা এও জানান, আগামী তিনদিনের মধ্যে সর্বশেষ বসানো খুঁটির শক্ত আকার ধারণ করবে। আর পুরোপুরি লোড নিতে সময় লাগবে প্রায় এক মাস।

প্রসঙ্গত, চার বছর আগে পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হয়। সবশেষ খুঁটির কাজের মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করল প্রকল্পটি। মাঝে খুঁটি জটিলতার কারণে এক বছরের বেশি সময় কাজ পিছিয়েছে।

চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি জানায়, মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়া এসেছে ৩৯টি। ২৭টি স্থাপন করা হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য চার হাজার ৫০ মিটার। বাকি দুইটি স্প্যান চীনে নির্মাণ সম্পন্ন করে রাখা। এখন সে দুইটির ব্লাস্টিং ও পেইন্টিং কাজ চলছে। ২০ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে এটি বাংলাদেশে রওনা দেবে। এরপরই এক সঙ্গে দৃশ্যমান হবে পুরো সেতু।

৪২টি খুঁটিতেই দাঁড়াবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা পদ্মাসেতু। এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম।

পদ্মাসেতুর প্রকৌশলীরা জানান, মাঝ নদী ও মাওয়া প্রান্তে সেতুর ২২টি খুঁটিতে সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। প্রথমে যে গভীরতার ধারণা নিয়ে কাজ এগোনো হচ্ছিল বাস্তবে তার সঙ্গে মেলেনি। এ নিয়েই বিপত্তি হয়েছিল সেতু নির্মাণে। এসব কারণে প্রায় অর্ধেক (২২টি) খুঁটির কাজ আটকে যায়।

তারা আরো জানান, সবশেষে এমন একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় যাতে নদীর তলদেশে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় মাটি বদলে নতুন মাটি তৈরি করে খুঁটি গাঁথা যায়। এই বিশেষ ‘স্ক্রিন গ্রাউটিং’ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা সফলতা পাওয়া যায়।

পদ্মাসেতুর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, পাইপের ছিদ্র দিয়ে বিশেষ কেমিকেল নদীর তলদেশে পাঠিয়ে মাটির গুণাগুণ শক্ত করে তারপর সেখানে খুঁটি গাঁথা হয়েছে।

তিনি বলেন, কাজ শুরু করতে গিয়ে নদীর নিচে মাটির যে স্তর পাওয়া গেছে তা খুঁটি গেঁথে রাখার উপযোগী নয়। পরে নদীর তলদেশের মাটির গুণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে ড্রাইভিং করতে হয়েছে। এমন পদ্ধতিতে কোনো সেতুর খুঁটি নির্মাণ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হয়েছে। যা বিশ্বে নজিরবিহীন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১১টি খুঁটি গড়ে তোলা হয়েছে। সবশেষ ৪২ নম্বর খুঁটিও এভাবে ঢালাইয়ের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে।

নদীতে ৬.১৫ কিলোমিটারসহ মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর জেলা মিলিয়ে সাড়ে নয় কিলোমিটার লম্বা পদ্মাসেতু। দেশের সবচেয়ে বড় এই নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনে পদ্মাসেতু খুলে দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত সেতুর চার কিলোমিটার দৃশ্যমান।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930