সোমবার ১লা জুন, ২০২৬ ইং ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

এমপি কন্যা শিক্ষিকার একি কান্ড!

আকাশবার্তা ডেস্ক :

চলচ্চিত্রে অসম্ভবকে সম্ভব করা যেমন অনন্ত জলিলের কাজ। ঠিক বাস্তব জীবনে ক্ষমতাশালীরা সব অসম্ভবকে সম্ভব করে যাচ্ছেন ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে। জামালপুরের এক এমপি কন্যা এক মাসের অসুস্থতার ছুটি নিয়ে ১১ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। ইসলামপুর উপজেলার জে জে কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এমপি কন্যা।

জামালপুর- ২ আসনের এমপি ফরিদুল হক খান দুলালের কন্যা ফারজানা হক। ২০০৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান ফারজানা। ২০০৯ সালে জে জে কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে কয়েকদিন ক্লাস নেন। পরে ওই বছরই তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে এক মাসের ছুটি নিয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিষয়টি সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল অকপটে স্বীকারও করেছেন।

তিনি বলেছেন, তার মেয়ে স্বামী নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেখানে একটা ব্যবস্থা হলেই এর একটা সুরাহা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়টি সমাধান হবে বলে তিনি জানান।

জে জে কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে না আসলেও বেতন উত্তোলন করেন না। তবে তার পদ থেকে অব্যাহতিও দেননি। শুনেছি, তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে কিছুদিনের মধ্যে এসে এর একটা ব্যবস্থা করবেন।

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌসের বক্তব্য হলো-, ওই শিক্ষিকা ২০০৯ সালে অসুস্থতাজনিত কারণে এক মাসের ছুটি নেন। এরপর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তবে তিনি এরপর থেকে বেতনও উত্তোলন করেননি। এই শিক্ষা কর্মকর্তা বেতনের উপর জোড় দিচ্ছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী বেতন না নিলেই যেন সব জায়েজ। এক মাসের ছুটি নিয়ে ১১ বছর অনুপস্থিত শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব।

প্রশ্ন হলো- এতো বছরেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন? এমপির মেয়ে বলে? উপজেলায় উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাজ কি? অফিসে বসে সময় কাটানো আর মাস শেষে বেতন নেয়া? এমনটি হলে তো শিক্ষা কর্মকর্তার দরকার নেই। সরকার এসব কর্মকর্তা পোষে লাভ কি? শুধুমাত্র অর্থের অপচয়।

এখানে আরেকটি প্রশ্ন? এগার বছর ফারজানা কেন চাকরি ছাড়েন নি? কেন জেনে শুনে ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে চলে গেলেন? সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলমকে প্রশ্নটি করতেই ভয়াবহ তথ্য দিলেন তিনি। বললেন, এভাবে চাকরির সময়টুকু পার করতে পারলে মোটা অঙ্কের পেনশন পেতেন। এ ইচ্ছা থেকেই বিষয়টি গোপন রেখেছেন এত বছর।

জাহাঙ্গীর আরও জানালেন, ফারজানা ওই বিদ্যালয়ে যান আরেক শিক্ষিকাকে চরাঞ্চলে বদলি করে। এগার বছর পর কিভাবে জানলেন? বললেন, ঠাকুর ঘরে কেরে, আমি কলা খাইনির মতো অবস্থা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০