বুধবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ

গাউছিয়ার দোকানকর্মী থেকে যেভাবে হলেন ‘গোল্ডেন মনির’

আকাশবার্তা ডেস্ক :

অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখার অভিযোগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা থেকে ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শনিবার (২১ নভেম্বর) সকালে র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাতভর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোল্ডেন মনিরের বাসায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। মনিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়। তার ছয়তলা ভবনের বাসায় প্রতিটি ফ্লোরে তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানে মনিরের বাড়ি থেকে নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, ৪ লিটার মদ, ৮ কেজি স্বর্ণ, একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র ও মদের পাশাপাশি ৯ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনিরের বাড়িতে পাঁচটি গাড়ি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তিনটি গাড়ির বৈধ কাগজপত্র নেই বলে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

মনিরের ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার উপর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। বাড্ডা, নিকেতন, কেরানীগঞ্জ, উত্তরা, নিকুঞ্জে দুইশর বেশি প্লট রয়েছে তার।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির। এরপর রাজধানীর মৌচাকের একটি ক্রোকারিজ দোকানে তিনি কাজ নেন। সে সময় এক লাগেজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয় হলে মনির লাগেজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। 

আশিক বিল্লাহ  বলেন, ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত, এই রুটে তিনি প্রথমে লাগেজে করে কাপড়, কসমেটিক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটারসামগ্রী, মোবাইল, ঘড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা-নেয়া করতেন। এই কাজগুলো করতে করতে তিনি লাগেজ স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। পরে বায়তুল মোকাররমে একটি জুয়েলারি দোকান দেন মনির। সময়ের ব্যবধানে মনির বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

চোরাচালানের দায়ে ২০০৭ সাল বিশেষ ক্ষমতা আইনে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় বলে জানান র‍্যাবের এই মুখপাত্র। 

আশিক বিল্লাহ আরও বলেন, ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে মনির অসংখ্য প্লটের মালিক হয়েছেন। রাজউক থেকে প্লটসংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র চুরি করে এবং অবৈধভাবে রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে দাফতরিক কাজে ব্যবহার করে রাজউক, পূর্বাচল, বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা এবং কেরানীগঞ্জে নামে-বেনামে অন্তত দুই শতাধিক প্লট নিজের করে নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির ৩০টির বেশি প্লটের কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য দুদক, বিআরটিএ, মানিলন্ডারিংয়ের জন্য সিআইডি এবং ট্যাক্স ফাঁকি বা এ সংক্রান্ত বিষয়ে এনবিআরকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবে র‌্যাব।

তিনি আরও বলেন, মনিরের যে ফৌজদারি অপরাধ, অনুমোদহীন বিদেশি মুদ্রা রাখার জন্য বাড্ডা থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করবে। এ ছাড়াও, অস্ত্র এবং মাদক রাখার জন্য অস্ত্র ও মাদক আইনেও মামলা দায়ের করবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০