সর্বশেষ:
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া

ভাসানচরে রোহিঙ্গা : এক টুকরো শহরে শিশুদের উল্লাস

আকাশবার্তা ডেস্ক :

শিশুদের আনন্দ-উল্লাস! বঙ্গোপসাগরের বুকে এক টুকরো শহর। বন্দি জীবন থেকে মুক্ত জীবনে উখিয়ার আশ্রিত রোহিঙ্গারা। ভাসানচরে মনোমুগ্ধকর কাটলো প্রথম দিন। ভেঙেছে ভুল ধারণা। সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে সরকারের। বয়স্কদের চাইতেও সবচেয়ে বেশি খুশি শিশুরা।

বিশাল বিস্তৃত মাঠ, সবুজ প্রকৃতিতে শিশুদের উৎসব দেখে অভিভাবকরাও স্বস্তি পাচ্ছেন। শিশুদের এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়িতে মন ভরে গেছে সবার। প্রথম দিনই মুক্ত পরিবেশে ক্রিকেটসহ নানা ধরনের খেলাধুলা করেছে শিশুরা। বয়স্করা সৌন্দর্যময় ঘর দেখে রীতিমতো অভিভূত হয়ে যান।

যে পরিবেশ এতদিন তারা পাননি কুতুপালং ক্যাম্পে। এখানে এসেই ২২ এনজিওর ব্যবস্থাপনা দেখে খুশি তারা। নেই খাবারের চিন্তা। আগামী একমাস নিজেদের চুলা জ্বালানোর প্রয়োজন হবে না। একটি এনজিও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করছে। সবাই গতকাল যার যার ঘর বুঝে নিয়েছেন।

ভাসানচরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য— রোহিঙ্গাদের চাহিদার চেয়েও বেশি কিছু রয়েছে এখানে। বাজার তৈরি করা হয়েছে। এখানে উৎপাদিত সব কিছু রয়েছে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে। পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন প্রস্তুত রয়েছে। প্রথম দিন কাটানো রোহিঙ্গাদের ভাষ্য— ভাসানচর আসার আগে জায়গাটির অনেক গল্প শুনেছেন তারা। ইউটিউবে কিছু দৃশ্যপট দেখেছেন। মাঝিদের কাছেও অনেক গল্প শুনেছেন।

এছাড়া টেলিভিশনের খবরে ভাসানচরের দৃশ্য দেখেছেন। যা জেনেছেন ও শুনেছেন এখানে এসে যেনো এখন তারা স্বপ্নের দৃশ্যপট খুঁজে পেয়েছেন।

অনেকেই গতকাল রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, এখানকার অবস্থা জানানোর পর এখন অন্য রোহিঙ্গারা এখানে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তারা নিজ দেশে ফিরতে চান। তার আগে যতদিন বাংলাদেশে থাকবেন ততদিন ভাসানচরেই থাকতে চান।

আরিফুন নেসা নামে এক রোহিঙ্গা প্রথম দিনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘এত সুন্দর জীবন যাপনের ব্যবস্থা আসার আগে ধারণাই করিনি।’ নদীর বুকে সুন্দরের সমাহার, সব কিছুর ব্যবস্থাপনা দেখে আল্লাহ ওপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। সরকারকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
 
বঙ্গোপসাগরের বুকে এক টুকরো শহর : বঙ্গোপসাগরের বুকে সন্দ্বীপের কাছে জেগে ওঠা দ্বীপ ভাসানচর। পড়েছে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়। আয়তনে প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপটিতে ভূমি আছে প্রায় ১৩ হাজার একর, যার প্রায় সাত হাজার একর কখনোই ডুবে না।

সেখান থেকে ১৭ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তদারকিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার কর্মী দিনরাত কাজের ফলে ভাসানচর এখন সাগরের বুকে এক টুকরো শহর। স্থাপনাগুলো এমনই যে, ২৬৫ কিলোমিটার গতির ঝড় সহনীয়। ভাসানচরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩ এর জন্য প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা।

পরে বেড়িবাঁধ তা ৭৮২ কোটি টাকা বাড়িয়ে তিন হাজার ৯৪ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। সেখানে ১২০টি ক্লাস্টার বা গুচ্ছগ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে এক হাজার ৪৪০টি আবাসন ঘর। প্রতি ক্লাস্টারে আছে একটি সাইক্লোন শেল্টার, একটি পুকুর, একটি খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা। প্রতিটি শেডেই স্থাপন করা আছে স্যোলার প্যানেল। প্রতিটি শেডে আছে রান্নাঘর, শৌচাগার এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা।

আছে দুটি ২০ শয্যার হাসপাতাল, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, ব্যারাক হাউস ও কাঁচাবাজার। সবচেয়ে দর্শনীয় যে জিনিসটি তা হলো— সুউচ্চ লাইট হাউস, যা সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে পথ দেখায়। আবাসন প্রকল্পসহ বাসযোগ্য পুরো এলাকার সড়কগুলো কংক্রিট ঢালাইয়ে মোড়া। রয়েছে বিস্তীর্ণ চারণভূমি যা গবাদিপশু পালনের জন্য খুবই উপযুক্ত। এখানকার ভূমিও যথেষ্ট উর্বর। ফলে ক্রমেই আরও সবুজ হয়ে উঠছে ভাসানচর।

ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক কমোডর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, ‘এটা অনেক প্রত্যাশার দিন ছিলো রোহিঙ্গাদের। আমাদের এত পরিশ্রমে গড়া এই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের অবস্থানে প্রাণ এসেছে। এটা খুবই আনন্দের দিন। এখানে রোহিঙ্গারা অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবন পাচ্ছে। ব্যবস্থাপনা দেখে রোহিঙ্গারা অনেক বেশি খুশি হয়েছে। খবর পাচ্ছি এখন তারা উখিয়ার অন্য রোহিঙ্গাদেরও আসতে বার্তা পাঠাচ্ছে।’

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খান আমার সংবাদকে জানান, প্রথম দিন রোহিঙ্গারা অনেক উৎফুল্ল দিন কাটিয়েছে। এখানকার ব্যবস্থাপনা দেখে তারা খুশি হয়েছে। এতদিন তাদের যে ভুল ধারণা ছিলো তা ভেঙেছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930