শনিবার ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন, মহাসড়কে যানজট রায়পুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বাংলাদেশ ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে চীন থেকে সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল

সন্তানের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা : আসামি মানিক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

আকাশবার্তা ডেস্ক :

রাজধানীর পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় সন্তানের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি মানিক তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২১ মে) ভোরে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি মারা যান।

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, আজ ভোরের দিকে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মানিক নিহত হয়েছেন। মানিকের নামে থানায় একাধিক মামলা আছে। তিন মাস আগেও ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, রাতে আমাদের একটি টহল টিম কাজ করছিল। তাদের কাছে খবর আসে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

‘টহল টিমটি সেখানে গেলে র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে, আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নিহত ব্যক্তি নাম মানিক। পল্লবীতে সাইনুদ্দিনকে যে দুজন কোপাচ্ছিল তার একজন হলো মানিক।

ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান মোজাম্মেল হক।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত রোববার পল্লবীর বুড়িরটেকের বাসিন্দা সাহিনুদ্দিনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তার সন্তানের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সুমন বাহিনীর সদস্য মনির ও মানিক রামদা দিয়ে সাহিনুদ্দিনকে একের পর এক কুপিয়ে যাচ্ছেন। আশপাশ থেকে ভেসে আসছে চিৎকার-কান্না। মাটিতে লুটিয়ে ছটফট করতে করতে বাঁচার আকুতি জানান সাহিনুদ্দিন।  সাহিনের হাত-পা, গলা, মুখ, পেট, ঊরু, মাথা, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলাপাতাড়ি কোপানো হয়। কিছুক্ষণ কুপিয়ে মানিক চলে গেলেও মনির কুপিয়ে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গলায় কুপিয়ে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার পর স্থানত্যাগ করেন মনির।

পরদিন এ ঘটনায় সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বেগম পল্লবী থানায় ২০ জনের নামে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়ালকে। আউয়ালকে ভৈরব থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য বৃহস্পতিবার ঢাকায় র‍্যাবের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়।

ওই হত্যা মামলায় আউয়ালসহ এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার পুলিশ যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ থেকে সুমন বেপারীকে এবং পল্লবী থানাধীন কালাপানি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আসামি রকি তালুকদারকে।

এর আগে পল্লবী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দিপু ও মুরাদ নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বেগমের অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রোপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি আউয়ালের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা সাহিনুদ্দিনকে হত্যা করেছে।

আলীনগর এলাকায় সাহিনুদ্দিনদের আনুমানিক ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেয়ায় খুন হতে হয়। গত ১৯ মে সকালে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, হত্যাকাণ্ডের ৪/৫ দিন আগে সাবেক সাংসদ আউয়ালের কলাবাগানের অফিসে বসে সন্ত্রাসী তাহের ও সুমনসহ আরো কয়েকজনের সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য সুমনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সুমনের নেতৃত্বে অন্তত ১০/১২ জন সক্রিয়ভাবে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া আরো কয়েকজন যুক্ত ছিল।

তিনি জানান, হত্যার আগের দিন গত ১৫ মে সুমন, বাবুসহ কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন ষড়যন্ত্র ও ছক করে। ১৬ মে তারা পল্লবীর ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়। সাহিনুদ্দিনকে তারা সমঝোতার কথা বলে ডেকে আনে। সাত বছরের ছেলে মাশরাফিকে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেখানে যান সাহিনুদ্দিন। প্রথমে সুমন, মনির, মানিক, হাসান, ইকবাল ও মুরাদসহ ১০/১২ জন সাহিনুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। শেষ পর্যায়ে মনির সাহিনুদ্দিনের মাথায় এবং মানিক পায়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

তিনি আরো জানান, নিহত সাহিনুদ্দিন ও সুমন গ্রুপের মধ্যে গত দুই মাসে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পল্লবী থানায় ছয়টি মামলা হয়েছে। আলীনগর বুড়িরটেকে আউয়ালের একটি আবাসন প্রজেক্ট করেছে। সেখানে সাহিনুদ্দিনের পরিবারের জমি রয়েছে। সেই জমি দখল করে নিতে চেয়েছিলেন আউয়াল। এ জন্যই মূলত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এমএ আউয়াল নিজের আবাসন প্রকল্প পাহারার কাজে সন্ত্রাসী লালনপালন করেন। কিলার সুমনকে আউয়াল মাসে ১০/১২ হাজার টাকা দিতেন। হত্যাকাণ্ডে তাদের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। তবে এ কাজে কতো টাকা ব্যয় হয়েছে নির্দিষ্ট করে তা জানাতে পারেনি। র‍্যাব নিহতের পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছে, ৩০ লাখ টাকা চুক্তিতে দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আউয়ালের ঘনিষ্ঠ টিটু ও তাহের জড়িত। হত্যাকাণ্ডের জন্য টিটুর মাধ্যমে সুমনের কাছে টাকা গেছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০