সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার

ঋণগ্রস্ত সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব, কি বলছেন সংশ্লিষ্টরা?

গণমাধ্যম ডেস্ক :

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করে রোববার বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠাানোর ঘটনায় সাংবাদিক নেতারা ব্যাংক হিসাব তলবকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই হিসাব পাওয়ার পর জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বানও জানিয়েছেন এক নেতা।

চিঠিতে মঙ্গলবারের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরমে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (আওয়ামী লীগ সমর্থিত) সভাপতি মোল্লা জালাল ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি মোরসালীন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের তথ্যও চেয়েছে বিএফআইইউ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ছাড়া অন্য সাংবাদিক নেতারা হলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

মোরসালীন নোমানীও বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব’ সংক্রান্ত একটি সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানতে পারলাম। এর মধ্যে আমার নামটি দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছি। এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমাকে যারা ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন না, তারাও আমার আর্থিক সততা নিয়ে প্রশ্ন করেন –এটা আমি বিশ্বাস করিনা। তাছাড়া স্ত্রী অসুস্থসহ পারিবারিক কারণে ব্যাংকে আমি অনেক টাকা ঋণগ্রস্থ। যেসব নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেই তথ্য সংগ্রহ করার পর, তা যেন জনসম্মুখে (পাবলিকলি) অবশ্যই প্রকাশ করেন, সেই জোর দাবি জানাচ্ছি।

ডিআরইউ-এর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব। এর মধ্যে আমার নামটিও রয়েছে। আমার ব্যাংক হিসাব খুঁজে যা পাওয়া যাবে তাতে রাষ্ট্রের লজ্জা পেতে হবে। কারণ টানা ২০ বছর (একদিনের জন্যও বেকার ছিলাম না) ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ বিটে রিপোর্টিং করার পরেও ব্যাংক দুই লাখ টাকাও জমা নেই।’

পাঁচ লাখ টাকার একটি ঋণ রয়েছে জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘উল্টো ইবিএলে একটা ৫ লাখ টাকার পারসোনাল লোন রয়েছে। ২০ হাজার টাকার ভাড়া বাসায় থাকি। নিজের একটা বাহন নেই। জমাজমির যতটুকু মালিক পুরোটাই পৈত্রিক সূত্রে।’

তিনি লিখেছেন, ‘এমন একজনের পেছনে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ব্যবহার করে শক্তি অপচয়ের কোন মানে হয় না। এসব তথ্য আমার কাছে চাইলেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দিতে পারতাম।’

অপরদিকে বিএফউজে (বিএনপি জামায়াত পন্থী) সভাপতি এম আবদুল্লাহ তার ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছেন, আমারসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। একটি গোয়েন্দা সংস্থার চাহিদার প্রেক্ষিতে এটা চাওয়া হয়েছে বলে পত্রিকার খবরে জানলাম।  তালিকায় সাংবাদিকদের ৬টি সংগঠনের সরকার ও বিরোধী মতের একজন ছাড়া সকলের নাম আছে।

সাধারণভাবে হিসাব বিবরণী চাওয়া দোষনীয় কিছু নয়। নেতৃত্বের স্বচ্ছতার স্বার্থে এটা জরুরীও। কিন্তু বাংলাদেশে অভিজ্ঞতা ভিন্ন। বিশেষ বিশেষ প্রেক্ষিতে ও উদ্দেশ্যে এটা করা হয় তার উদাহরণ বিরল নয়। অনেক সুহৃদ আমাকে বলছেন দুই মতের সাংবাদিকদের হিসাব চাওয়া গ্রহণযোগ্যতা দেওয়ার কৌশল মাত্র। মূলত টার্গেট আমার মত ভিন্ন মতের সোচ্চার কন্ঠের দু’একজন। হতেও পারে। আবার নাও হতে পারে।  বিশ্বাস করতে চাই- ভিন্নমত দমনের অসৎ উদ্দেশ্যে বা ভাবমূর্তি  প্রশ্নবিদ্ধ করার মতলবে এটা করা হচ্ছে না।

৮ বছর বেকার। ঋণে জর্জরিত।  বাড়ির ঋণের কিস্তি খেলাপি হওয়ায় চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে দুদিন আগে ফোন করেছেন ব্যাংকের বিনিয়োগ কর্মকর্তা। ১৬ পার্সেন্ট সুদ আরোপ নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে বাহাস চলছে। মেয়ের সেমিস্টারের টাকা দিতে না পারায় জরিমানা হচ্ছে। ঋণমুক্ত হয়ে শেষ যাত্রার আকাঙ্খা নিয়ে বাড়ির ফ্ল্যাট বিক্রির চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ। পুরো বাড়ি বিক্রির জন্যও বিজ্ঞাপন দিয়েছি একাধিকবার। বাবার অবসর সুবিধার অর্থ, নানার বাড়ির সম্পদ ও গ্রামের বাড়ির একটি জমি বিক্রি করে বন্টনে যা পেয়েছি তা দিয়ে চলেছি কিছু দিন। বড় ছেলে হিসেবে এসব অর্থ আমার একাউন্টে জমা করে বন্টন হয়েছে।

যাইহোক তার পরও আল্লাহর শুকরিয়া কোটি কোটি মানুষের চেয়ে এখনও ভালো রেখেছেন তিনি। ঋণমুক্ত হতে না পারাই বড় ব্যর্থতা। বিবেকের তাড়নায় জুলুমের বিরুদ্ধে, সাংবাদিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার চেষ্টা করি। এটা স্তব্ধ করার পাঁয়তারা হলে কি করার আছে। বিভিন্ন সময়ে হুমকি এসেছে- সরকারের হাত অনেক লম্বা বলে। তাতো দেখতেই পাচ্ছি। তবে বন্ধুদের কাছে দোয়া চাই, যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রশ্নে লড়াই চালিয়ে যেতে পারি।

বিভিন্ন হাউজে চাকরি করার সময় বিভিন্ন ব্যাংকে একাউন্ট করতে হয়েছে। ব্যালেন্সশূ্ণ্য এ ধরনের একাউন্টের সংখ্যা কম নয়। আবার সৎভাবে বাঁচার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা ব্যবসায় জড়ানোর চেষ্টা করেছি। ৮-১০ বছর ধরে তাও বন্ধ। স্কুল করেছিলাম করোনাকালে তাও বন্ধ করতে হয়েছে। অতএব যারা হিসাব নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেছেন তারা যদি দায়দেনা মুক্ত করার জন্য সহায়তা করেন খুশি হবো। আশা করি সহযোদ্ধা বন্ধুরা যাচাই ছাড়া কোন অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডায় কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930