বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

৫ হাজার টাকার কৃষি ঋণ ২২ হাজার টাকা দিয়েও শোধ হয়নি

আকাশবার্তা ডেস্ক :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক বৃদ্ধের বয়স্ক ভাতা থেকে কৃষি ঋণের টাকা জোরপূর্বক আদায় করার অভিযোগ উঠেছে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ৫ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধের নামে গত ৮ বছরে বয়স্ক ভাতা থেকে ২২ হাজার টাকা কেটে নিলেও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাননি ওই বৃদ্ধ কৃষক প্রাণ হরিদাস।

ভুক্তভোগি ওই বৃদ্ধ কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মৃত কামিনী কুমার দাসের ছেলে।জোরপূর্বক ঋণের টাকা বয়স্ক ভাতা থেকে কেটে নেওয়ায় মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রাণ হরিদাস কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

প্রাণ হরিদাস জানান, ১৯৯৮ সালে কৃষি ব্যাংক তোরাবগঞ্জ শাখা থেকে ৫ হাজার টাকার কৃষি ঋণ নেন। গত ৮ বছর ধরে ওই ঋণ পরিশোধের নামে ভাতা উত্তোলনের দিন উত্তোলিত টাকা থেকে ঋণের টাকা কেটে নেয় ব্যাংক। এভাবে ভাতা থেকে ২২ হাজার টাকা কেটে নিলেও আরো টাকা দাবি করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

বর্তমানে অসুস্থ্য অবস্থায় অভাবে রয়েছেন প্রাণ হরিদাস। তিনি জানান, গত ৭ জুলাই ব্যাংকে বয়স্ক ভাতার ৩ হাজার টাকা উত্তোলন করতে যান। এ সময় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে ১ হাজার টাকা দিয়ে ঋণের নামে বাকি ২ হাজার টাকা কেটে রেখে দেন।

কৃষি ব্যাংকের উকিল নোটিশ থেকে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে প্রাণ হরিদাসের ছেলে মেঘনাথ দাস তার বাবার নামে ৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। অসহায় ওই বৃদ্ধ ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ২০০২ সালে কৃষি ব্যাংক তোরাবগঞ্জ শাখা থেকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। ওই উকিল নোটিশে সুদ-আসলসহ ৭ হাজার ২শ’ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। এরই মাঝে প্রাণ হরিদাসের সেই ছেলে মেঘনাথ দাস জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন।

সরেজমিনে ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংক নথিতে ২০০৯ সালে প্রাণ হরিদাসের নামে ৬ হাজার টাকার ফের ঋণ নেওয়ার তথ্য মেলে। কিন্তু প্রাণ হরিদাস এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যাংক কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে ঋণ আদায় না করে নির্দিষ্ট সময় এলে ঋণ পরিশোধ দেখিয়ে ফের নতুন করে ঋণের খাতা খুলে ওই বৃদ্ধের নামে। এভাবে বৃদ্ধের নামে তিনবার ঋণ গ্রহণ দেখায় ব্যাংক। এদিকে ৫ বছর আগে প্রাণ হরিদাসের ছেলে মেঘনাথের মৃত্যু হয়। একা হয়ে পড়েন অসহায় ওই বৃদ্ধ।

তোরাবগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক আবদুল কাইয়ুমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, দুইবার তার নামে ঋণ নবায়ন করা হয়েছে; লোকবলের অভাবে মাঠে গিয়ে ঋণের টাকা আদায় সম্ভব হয়নি। বয়স্ক ভাতা থেকে ঋণ পরিশোধে ২২ হাজার টাকা কেটে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন আবদুল কাইয়ুম। আরো প্রায় ১৫শ’ ৫৮ টাকা ব্যাংক পাওনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, বৃদ্ধের অভিযোগ পেয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে।

 

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০