মঙ্গলবার ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের চন্দ্রগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে সেরা ১০ উচ্চ বিদ্যালয়ের শীর্ষে প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন, মহাসড়কে যানজট রায়পুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বাংলাদেশ ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে চীন থেকে সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের

গোদরেজ গ্রুপ যে কারণে ভেঙে গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

দুটো আলাদা গ্রুপে ভাগ হয়ে যাচ্ছে ভারতের ১২৭ বছরের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী গোদরেজ। গোদরেজ গ্রুপের মালিকেরা তাদের ব্যবসা ভাগ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলার বা ৫৯ হাজার কোটি রুপির ব্যবসা ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এখন থেকে গোদরেজ এন্টারপ্রাইজ এবং গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ নামে দুটো আলাদা গ্রুপে ভাগ হয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করবে।

১৮৯৭ সালে গোদরেজ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দুই ভাই আরদেশির গোদরেজ ও পিরোজশা বুরজোরজি গোদরেজ।

গোদরেজ গ্রুপের কনগ্লোমারেটের মধ্যে আদি গোদরেজ (৮২) ও তার ভাই নাদির (৭৩) পেয়েছেন গোদরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ। তাদের চাচাতো ভাই-বোন জামসেদ গোদরেজ (৭৫) ও স্মিতা গোদরেজ (৭৪) পেয়েছেন গোদরেজ অ্যান্ড বয়েস। এছাড়াও মুম্বাইয়ে বিশাল জমি পেয়েছেন তারা।

কে কোন ব্যবসার মালিকানা পাচ্ছেন, তা ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে মানুষ জানলেও কিন্তু কথা হচ্ছে, কেন ভেঙে যাচ্ছে এত দিনের পুরোনো এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য।

তবে ভাঙনের কারণ সম্পর্কে গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোদরেজ পরিবারের সব সদস্যের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়—এই ভিন্নতার স্বীকৃতি দিতে শ্রদ্ধা ও সচেতনতার সঙ্গে সম্পদের এই পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। একতা বজায় রাখতে এটা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, গোষ্ঠীর ব্যবসা-বাণিজ্যের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, লক্ষ্য, গতি এগুলো আরো উন্নত করার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারসহ সব অংশীজনের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে মূল্য তৈরিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গোদরেজ পরিবারের এই বিবৃতির সঙ্গে গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তা আদি গোদরেজের আগের এক বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়। ২০১৯ সালে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেছিলেন, ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই বছর প্রয়াত শিল্পপতি রাহুল বাজাজকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে মোদি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে মানুষের মনে। আপনারা ভালো কাজ করছেন; তা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে কেন্দ্রের সমালোচনা করলে সরকার সেই সমালোচনা ভালোভাবে নেবে, সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের নেই।

গোষ্ঠীর আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা নাদির গোদরেজ ২০২২ সালে বলেছিলেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে, বন্ধ করতে হবে বিভাজন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যে সেটা দরকার, সরকার তা জানে—সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত বলে দাবি করেন। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন, ‘শিল্প খাতেরও উচিত, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করা—সরকারকে এ বিষয়ে আরো উদ্যোগী হতে হবে।’

তাদের এই বক্তব্য তখন বেশ আলোড়ন তৈরি করে ভারতের সমাজে। শিল্পপতিরা সাধারণত এ রকম ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ সামাজিক ও রাজনৈতিক মন্তব্য করেন না। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, শিল্পপতিরা সাধারণত এমন মন্তব্য করেন না, সে ক্ষেত্রে তাদের সেই বক্তব্য ছিলো বিরল।

গোদরেজ পরিবারের ভাঙন নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। যদিও এই ভাঙন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়েছে। ফলে ২০১৯ ও ২০২২ সালে ভারতের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে তারা যে কথা বলেছিলেন, তার সঙ্গে ভাঙনের সময়ের পরিবারের বিবৃতির অনেকটা মিল আছে বলে দেখা যায়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুলাই ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১