আকাশবার্তা ডেস্ক :
আগের দুই স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার পর শিক্ষক ত্রিদীপ পাটোয়ারী এখন নিজ কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন! নিজের এক সন্তানকে ছোট বোনের কাছে নোয়াখালীর মাইজদি শহরে রেখে চাকুরীর সুবাধে রায়পুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। চারমাস আগে রায়পুরের বাসা ছেড়ে এখন তিনি লক্ষ্মীপুর শহরের শাঁখারিপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। অবশেষে নিজ কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রুস্তম আলী ডিগ্রী কলেজে। অভিযুক্ত প্রভাষক নোয়াখালীর চৌমুহনীর ধীরেন্দ্র পাটোয়ারীর ছোট ছেলে।
মঙ্গলবার ( ৪ জুন) সকালে ওই কলেজে গেলে অধ্যক্ষ সাইফ উদ্দিন বিষয়টি এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে রিপোট না করা অনুরোধ করেন।
জানা গেছে, রায়পুর রুস্তম আলী ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি প্রভাষক ত্রিদীপ পাটোয়ারীর কাছে প্রাইভেট পড়তো একই প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী পশ্চিম কাঞ্চনপুর গ্রামের দিনমজুর নাজিম উদ্দিনের মেয়ে নিশি আক্তার (১৫)। কলেজে বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে ফুঁসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ওই শিক্ষক। শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে পর নিশিকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকতেন তিনি। এতে অন্য শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে খুব বিরক্তি প্রকাশ করে ধমক দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখতেন।
গত সোমবার সকালে কলেজে গেলে আর বাড়ি ফিরে আসেনি নিশি আক্তার। খোঁজাখুঁজির পরে মেয়েকে না পেয়ে নিশির বাবা তাদের সহপাঠীদের কাছে খোঁজ নিলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষক ত্রিদীপকে ফোন করেন। ত্রিদীপ তখন নিশিকে নিয়ে পালিয়ে গেলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গত মঙ্গলবার সকালে নিশীর বাবা নাজির পন্ডিত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রভাষক ত্রিদীপের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
ছাত্রীর মা শাহিনুর বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কলেজের হিন্দু ইংরেজি প্রভাষক ত্রিদীপকে আমি অনেক বিশ্বাস করতাম। টাকার জন্য আমার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতে পারতাম না। কিন্তু ত্রিদীপ মেয়েকে বিনা বেতনে পড়ানোর জন্য নানানভাবে চাপসৃস্টি করতো। সে যে, এতো বড় খারাপ, তা আমি জানতাম না। গত শীতের সময়ে কোন একদিন আমার বাড়ীতে আসলে তাকে দুপুরে ভাত খাইতে দিয়েছি। এ ঘটনায় আমার স্বামী এবং আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’
রুস্তম আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সাইফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ৮ বছর ধরে ত্রিদীপ এই কলেজের ইংরেজী বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। আগেও এক হিন্দু মেয়েসহ একাধিক ঘটনার জন্য কঠোর সতর্কতা করা হয়। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে, ত্রিদীপ নিজ সন্তানতুল্য গরীব শিক্ষার্থীকে নিয়ে পালিয়েছেন। বিষয়টি জানার পরে থানা পুলিশ ও কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তার বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুখ মজুমদার বলেন, আমাদের কাছে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে মেয়ের বাবা। আমি তৎক্ষণাৎ তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করি এবং তদন্ত করে জানতে পারি শিক্ষক ওই ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে নিয়ে পালিয়েছে। উক্ত ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।