শুক্রবার ৬ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

লক্ষ্মীপুরে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি, কমছেনা পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসায় পানিতে ডুবে গেছে সদর উপজেলাসহ জেলার বেশিরভাগ নিন্মাঞ্চল। এতে সদর উপজেলাসহ জেলায় এ পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ স্থায়ী সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ও মাদ্রাসার ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। ভানবাসী এসব মানুষকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে শুকনো খাবারসহ রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছোসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে।
এ দিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকলেও পানির উচ্চতা আশানুরুপভাবে কমছে না। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় পানিবন্দি মানুষ ঘরে ফেরার আশা করলেও তা আবার নিমিষেই মিইয়ে যাচ্ছে। বাড়েছে পানির চাপ। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এর মধ্যে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শিশু ও বয়োবৃদ্ধ নারীরা।

শনিবার (২৪ আগষ্ট) দুপুর ২ পর্যন্ত সদর উপজেলার মান্দারী, কাশাখালী, হাজিরপাড়া, উত্তরজয়পুর ও চন্দ্রগঞ্জসহ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে পানিবন্দি মানুষের দুর্বিসহ জীবনের চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত টানা কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত ছিল লক্ষ্যনীয়। গ্রামের সরু খালগুলোসহ জেলার প্রধান প্রধান (রহমতখালী-ওয়াপদা) খালগুলোর কোথাও কোথাও বেদখল হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশন হয়নি সঠিকভাবে। অন্য দিকে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃষ্টির পানির সাথে যোগ হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক দলগুলো বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো বন্যা র্দুতদের পাশে দাঁড়ালেও এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ তাদের খোঁজখবর নেয়নি বলে জানান অনেকেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠেছে কুশাখালী ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নে বেশিরভাগ বাসিন্দা পানিবন্দি। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদসহ ধর্মীয় উপাষনালয়গুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে। মুসল্লীরা নামাজ আদায় করতে পারছেন না।

উত্তরজয়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিংকু পাটোয়ারী জানিয়েছেন, গত ৩দিন ধরে তারা দলীয়ভাবে এবং তাদের ব্লাড ডোনার্স সংগঠনের পক্ষ থেকে অন্তত ৫শ’ পরিবারের মধ্যে রান্না করা এবং শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর (পূর্ব) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলী করিম, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহাম্মদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা এডভোকেট সাইফুল ইসলাম দিপু, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ওমর খান, যুবদল নেতা আলতাফ হোসেন ও নূর হোসেন হারুনসহ ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে গত ৩দিন যাবত শুকনো খাবারসহ রান্না করা খাবার প্যাকটে বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

চন্দ্রগঞ্জে ভানবাসী মানুষেরা এরই মধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন, দেওয়ারশাহ দীঘিরপাড়ে সাইক্লোন শেল্টারে, কফিল উদ্দিন কলেজ, প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ইব্রাহিম গার্লস হাই স্কুল, আত-তামরীন ক্যাডেট স্কুল এন্ড মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেওপাড়ার শাহ আলম, হারিছ মিয়া, সখিনা বেগম তারা জানান, বৃষ্টি না থাকলেও পানি কমছে না। বসতঘরে পানি ঢুকে গেছে। জিনিসপত্র যা আছে সেগুলো এখন পানির নীচে। জীবন বাঁচাতে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে প্রতাপগঞ্জ স্কুলের ভবনে ওঠেছি। অনেক কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি কোনো ত্রানসামগ্রী এখনো পাইনি।

এদিকে গত কয়েকদিন যাবত বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ড. রেজাউল করিমসহ জেলা পর্যায়ের নেতারা অব্যাহতভাবে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রানসামগ্রী বিতরণ করেছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যেখানেই আমরা পানিবন্দি মানুষের খোঁজ পাচ্ছি সেখানেই ছুটে যাচ্ছি উদ্ধার করতে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান জানান, যেসব এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। ওইসব এলাকায় আমাদের নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) কাজ করছেন। আমরা পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নেয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১