নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে ১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ। ‘১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ-২০২৬’ সফল করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-১ মে শোভাযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ, ২ মে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ৪ মে ‘মিট দ্যা প্রেস’-এর মাধ্যমে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ, ৫ মে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সোর্সদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, ৬ মে ঢাকায় সমাবেশ উপলক্ষে যাত্রা এবং ৭ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে কেন্দ্রীয় সমাবেশ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিককে নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ’-এ বহুমাত্রিক পেশাজীবীদের সমন্বয়ে সদস্যপদ প্রদানের একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, কমিটিতে প্রিন্ট, টেলিভিশন, অনলাইন ও রেডিওসহ সকল গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পাশাপাশি আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষক, গবেষক, সমাজকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, চিকিৎসক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নারী ও ছাত্র প্রতিনিধি এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এ ধরনের বহুমুখী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তবে কমিটির নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সক্রিয় দলীয় রাজনৈতিক পদধারী, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের সদস্যপদ না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় সভাপতি হিসেবে একজন সিনিয়র সাংবাদিক বা গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব, সহ-সভাপতি হিসেবে আইনজীবী বা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একজন কর্মরত সাংবাদিক রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রয়োজন অনুযায়ী এ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা যাবে, তবে কোনোভাবেই অযোগ্য বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল পদে মনোনয়ন না দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন আহমেদ আবু জাফর, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম এবং আহ্বায়ক, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি-বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল।