নিজস্ব প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের গোবিন্দেরখিল গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও শ্রমিকদের বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের জেদ্দার গুলাইল এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি মঞ্জুর হোসাইন আলভীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আবু সাঈদ জনশক্তি সরবরাহ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে কাজ করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রমিকরা কাজ সম্পন্ন করার পর অনেক ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ বেতন বা প্রাপ্য অর্থ বুঝে পাননি। ফলে বহু শ্রমিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা এখনও তাদের পাওনা অর্থের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এছাড়া চাকরির আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে নেওয়া কিছু শ্রমিককে প্রতিশ্রুত সুবিধা, নিয়মিত বেতন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক শ্রমিক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ধারণা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শ্রমিকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে অনেক প্রবাসী বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। কেউ পরিবারে নিয়মিত অর্থ পাঠাতে পারছেন না, আবার কেউ ঋণের বোঝা বহন করছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর সৌদি আরবে অবস্থান করেছেন এবং মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কাজ করেছেন। কারও কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
এদিকে ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
(চলবে…)