বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

অবশেষে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে বাল্যবিয়ের শিকার কাজলী

আকাশবার্তা ডেস্ক :

কিশোরী গৃহবধূ কাজলী। শ্বশুরবাড়ি হতে এসে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। কী এমন বয়স হয়েছে তার যে কৈশোর না পেরুতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হলো। যখন সে পরীক্ষা শেষে বাড়ি এসে সংগী-সাথিদের নিয়ে পুতুল খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ার কথা, তখন তাকে শ্বশুবাড়িতে গিয়ে স্বামী সংসার নিয়ে যান্ত্রিক জীবনের বোঝা টানতে হবে। সত্যিই কি সে সংসার নামক এ বোঝা টানতে পারবে। নাকি সংসার নামক যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আমাদের দেখিয়ে দেবে বাল্যবিয়ে নামক এক অভিশাপের ভয়াবহ চিত্রটি। বগুড়ার শেরপুরে কোনো কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে। ফলে বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে অনেক কিশোরীর জীবন হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত। এসব বাল্যবিয়ের কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তাই মূল কারণ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ও শহরতলীতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

এমনই একটি বাল্যবিয়ের শিকার বাগড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির মেয়ে কাজলী আক্তার। সে বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এবারের পিইসি পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার বেশ কয়েকদিন পূর্ব থেকে স্কুলে অনুপস্থিত দেখে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল হালিম খোকন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ওই ছাত্রীর শ্বশুর শাহাদতকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হলে পরে বিভিন্ন ব্যক্তি দিয়ে বুঝিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান।

বিভিন্নভাবে তথ্য নিয়ে জানা যায়, কাজলী আক্তার দেখতে সুন্দর হওয়া ও পিতামাতা অভাবী হওয়ায় তাকে দ্রুত বিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর আমইন গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে আব্দুল আলীমের সাথে বিয়ে দেয়া হয় তাকে। মেয়ের পিতা অটোচালক হাবিবুর রহমান হবি জানান, আমি গরিব মানুষ। মেয়ে দেখতে সুন্দর হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ে আসছিল, ছেলেটি পছন্দ হওয়ায় বিয়ে দিয়েছি। এত অল্প বয়সে বিয়ে দিলেন কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের যে সামাজিক অবস্থা কখন কি হয়ে যায় বলা মুশকিল। একবার কোনো অঘটন ঘটলে বিয়ে দেয়া কঠিন হয়ে যাবে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল হালিম খোকন বলেন, আমরা সব সময় খোঁজ খবর রাখি তারপরও গোপনে ওই ছাত্রীর বিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি জানতে পেরে অনেক চেষ্টার পর তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাতে পেরেছি। এটি সামাজিক মূল্যবোধের অভাব। কেননা এত ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে সংসারের বোঝা মাথায় চাপিয়ে দেয়া অনেক বড় অন্যায়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাইয়ুম জানান, আমরা সব সময় বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করি। তারপরও যারা এ কাজ করছেন জানতে পারলে তাৎক্ষণিক আইনিব্যবস্থা নিই। কিন্তু দু-একটি এমন গোপনভাবে বিয়ে দেয় কেউ জানতে পারে না।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০