শনিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি

‘দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে খালাস দেয়া হোক’

আদালত প্রতিবেদক :

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান বলেছেন, সংবিধানের ৫৫ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো পাবলিক সার্ভেন্ট কোনো মামলার আসামি হতে পারে না। এই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ আনতে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আমি সম্মানের সাথে আদালতকে বলেছি, এই মামলায় খালেদা জিয়াকে খালাস দেয়া হোক।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান যুক্তিতর্ক শেষ করেছেন।

রেজাক খান বলেন, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ সমন্ধে কোন সাক্ষী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে বলেননি। মোস্তাফিজুর রহমান এ মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। মামলার বাদী ছাড়া আর কোন সাক্ষী বলেন নি যে খালেদা জিয়া একাউন্ট খুলেছেন। খালেদা জিয়ার অনুমোদনের কথা বলা হলেও অনুমোদনের নথি কেউ দেখেন নাই। তার বিরুদ্ধে আনীত অনুমোদনের অভিযোগ সত্য নয়।

তিনি বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়াকে চোর বানানোই এ মামলার উদ্দেশ্য। সেনা সমর্থিত সরকারের সময় এ মামলা হয়। এ সরকারের আমলেও তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা দেয়া হয়েছে। মামলার ভারে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। খালেদা জিয়াকে জনসম্মুখে হেয় করার জন্য মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। যা বিচারের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন তার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেছেন, এ মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে বেলা সোয়া ১১টায় আদালতে পৌঁছান বিএনপি প্রধান।

এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর দুই দুর্নীতি মামলার কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

গত মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামি খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বুধবার রেজাক খান তার যুক্তিতর্ক উস্থাপন শেষ করেছেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবারও রেজাক খান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক উস্থাপন করবেন। খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। এছাড়া জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য আদালতে জমা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯ ডিসেম্বর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এমামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল (ইকোনো কামাল), ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০