সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

সহনীয় মাত্রায় ঘুষ ইস্যুতে ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

আকাশবার্তা ডেস্ক :

‘সহনীয় মাত্রায় ঘুষ’ খাওয়া ও ‘অফিসাররা চোর, মন্ত্রী চোর’বিষয়ক বক্তব্যের ব্যাখ্যায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কতিপয় মিডিয়া আমার বক্তব্য ‘খণ্ডিতভাবে’ তুলে ধরায় বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে- খণ্ডিত এই বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি এই কথা বলেছিলেন।

বুধবার ( ২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের ব্যাখ্যা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে পরে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে চাইলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। লিখিত বক্তব্যই তার উত্তর বলে তিনি সম্মেলনকক্ষ ত্যাগ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে তারা সরকারে আসার পর শুরুর দিকে ডিআইএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে নিয়ে আসতেন শিক্ষকরা। তারা বলতেন, সহনীয় মাত্রায় ঘুষ নিলে তারা চলতে পারবেন। এই উদাহরণই তিনি দিয়েছেন সেদিন।

‘অনেক শিক্ষক এসে আমার কাছে কান্নাকাটি করে বলতেন, আমরা নিম্ন বেতনে চাকরি করি, এত টাকা আমরা কোথা থেকে দেবো। এক মাসের বেতন সম্পূর্ণ টাকা ঘুষ দিলে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা খাব কী করে? ঘুষের মাত্রা আরেকটু সহনীয় হলেও বাঁচতাম বলে তারা মন্তব্য করতেন। এটা শিক্ষকদের কথা।’

নিজেকে দুর্নীতিবাজ ও চোর আখ্যা দেয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘তারা যখন শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা চাইতেন, পুরা মাসের বেতন নিয়ে নিতে চাইতেন, তখন শিক্ষকরা কম দিতে চাইতেন। তখন তারা বলতেন এত কম টাকায় হবে না, ওপরেও দিতে হবে। তাতে শিক্ষক কর্মচারীরা মনে করতে বাধ্য হতো তাদের প্রদত্ত ঘুষ শুধু পরিদর্শনকারীরা পেত না, ঊর্ধ্বতন আমলারা পায় এবং মন্ত্রী হিসেবে আমিও পাই। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষক কর্মচারীরা মনে করত অফিসাররা চোর, মন্ত্রীও চোর।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে এই ছিল অবস্থাটা। মানুষের কাছে টাকাটা যখন চাইত, তখন বলত ওপরে দিতে হয়। ওপরে মানে কী? আরও বড় অফিসার, আরও বড় মন্ত্রী, তখন মানুষ বলত মন্ত্রীও খায়।’ ‘তখন মানুষ মনে করত, আমলা, অফিসার আর মন্ত্রীরাও ঘুষ খায়। আমি মন্ত্রীও ঘুষ খাই, আমি মন্ত্রীও চোর, এটা মানুষের একটা ধারণা ছিল। শিক্ষকরা আমাদেরকে এ কথা বলেছেন।’

তবে মন্ত্রী বলেন, সেদিন তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলের উদাহরণ দিলেও ওই সরকারের নাম নেননি।

বিএনপির সমালোচনার জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আসলে তাদের সময়ই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াতের সময়, বরং তাদেরই উচিত এর ব্যাখ্যা দেয়া, তাদের কুশাসনের ফসল এটা।’

যে বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে সেটি গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে এসেছে বলে দবি করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ পত্র পত্রিকা ও মিডিয়ায় এই বক্তব্য সঠিকভাবে আসলেও দুই একটি মিডিয়ায় কথাটা বিভ্রান্তিকরভাবে এসেছে এবং এ কারণে আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।’

‘আমার কিছু হারানোর নেই’ এমন মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে কিছু পাওয়ারও নেই। আমি বিনয়ী কিন্তু নীতিগত দিক থেকে অবিচল। কেউ যদি তাকে অসহায়ত্ব মনে করেন তবে তা হবে অন্যায়।’

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ কতিপয় মিডিয়ার খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তুলছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সবিনয়ে বলতে চাই, সুদীর্ঘ কাল ধরে আপনারা আমার সততার সংগ্রাম, নীতি-আদর্শ, কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ বিষয়ে অবগত। মিডিয়ার খণ্ডিত ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে কোনোমন্তব্য করার আগে সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলে অনেক বেশি খুশি হতাম।’

‘আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আমি অবিচল। সততা, স্বচ্ছতা আর দেশ প্রেমের ভিত্তিতেই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশ ও জাতির সেবায় সারাজীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। এটিই আমার রাজনৈতিকশিক্ষা।’

লিখিত বক্তব্যের পর মন্ত্রিত্ব ছাড়তে টিআইবির আহ্বানের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবি তাদের কাজ করেছে। আমি কারো বিষয়ে কোন মন্তব্য বা দোষী করতে রাজি নই।’

সাংবাদিকরা এরপরও নানা প্রশ্ন তুলে ধরতে থাকলে মন্ত্রী ‘আজ আমি কোন প্রশ্নের উত্তর দেবো না। আমার বক্তব্য আমি তুলে ধরেছি। এর বাহিরে আর কিছু নাই’ বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে চলে যান।

মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল ডিআইএ। চরম দুর্নীতি, অব্যবস্থা, দুর্বলতা ছিল দৃশ্যমান। আট বছরে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে বলে দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী।

‘বহুদিন ধরে কাজ করে মটিভেশন করে, প্রস্তুতি নিয়ে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে সেই সঙ্গে ‘পিআর ইনস্পেকশন’ আমরা চালু করেছি যেখানে শুধুমাত্রা অফিসার না, আমাদের বিভিন্ন অধ্যক্ষ, হেডমাস্টার বা শিক্ষক বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত করে আমরা মিলিয়ে দিয়েছি। যাতে করে আমাদের সংখ্যাও বাড়ে, বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারবে ঘন ঘন।’

মন্ত্রী জানান, ডিআইএ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে ল্যাপটপ দেয়া হয়েছে ফলে সবাই এখন কানেকটেড থাকে। এতে অনেক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী। ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নন, মন্ত্রী-এমপিরাও দুর্নীতি করেন। তাই ঘুষ না নিতে বলার সাহস আমার নেই। আপনারা ঘুষ নেন, তবে তা সহনীয় মাত্রায় নেবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘নানা জায়গাতে এমন হচ্ছে। খালি যে অফিসাররা চোর তা না, মন্ত্রীরাও চোর। আমিও চোর। এ জগতে এমনই চলে আসছে।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930