সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ প্রায় সম্পন্ন

আকাশবার্তা ডেস্ক :

মুসলমানদের পবিত্র হজের পরে সারাবিশ্ব মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ধর্মীয় মহাসমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা ১২ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

এরপর একটানা চারদিন বিরতির পর একই স্থানে দ্বিতীয় ধাপের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব বিশ্ব ইজতেমা আগামী ১৯ জানুয়ারি শুক্রবার শুরু হয়ে ২১ জানুয়ারি দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে। মুসলিম জাহানের সুখ, শান্তি, অগ্রগতি, কল্যাণ ও ভ্রাতৃত্ববোধ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে চলতি বছরের দু’পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে। এটি ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা আসর। বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর অদূরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) শিল্পনগরী সোনাবান বিবি’র টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার সকল ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। মাঠের অল্প কিছু অংশের কাজ এখনও বাকী আছে। শেষ মুহূর্তে মাঠ প্রস্তুতির সার্বিক কাজ বেশ জোরেশোরে চলছে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে এসকল মাঠের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিশ্বইজতেমা আয়োজক কমিটি।

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ঘুরে জানান, শেষ মুহুর্ত্বে বিশ্ব ‘ইজতেমা মাঠের সার্বিক উন্নয়ন কাজ বেশ জোরেশোরে শুরু হয়েছে। গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা, তুরাগ, সাভার, উত্তরখান, দক্ষিণখান, রাজধানী ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশ্ব ইজতেমার সাথী, তরুণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, যুবকসহ সর্বস্তরের শত শত মানুষ স্বেচছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রতিদিন ইজতেমার মাঠে এসে কাজ করছেন।

কাজ শেষে তারা অবার সন্ধ্যায় নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাচেছন। ইজতেমা মাঠের ভেতরে বাঁশের খুঁটি নির্মাণ, বিশাল চটের সামিয়ানা তৈরী, টয়লেট নিমাঁণ, ওজু, কাঁচা টয়লেট নির্মাণ, গোসলখানা তৈরী, বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন, গ্যাস ও পানির লাইন সংস্কার ও মেরামত, বিদেশী অতিথিদের আবাসন তৈরী ও সেখানে যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজসহ সকল ধরনের প্রস্তুতি ইতি মধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। শতকরা মাঠের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ ইতি মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তবে, অল্প কিছু কাজ এখন ও বাকী আছে। মাঠের বাকী কাজ গুলো এখন বেশ জোরেসোরে করা হচেছ। এসমস্ত কাজ এখন অনেকটা এগিয়ে চলছে। বাকি কাজগুলো আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছে ইজতেমা আয়োজন কমিটি।

জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমাকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে এখন দুই পর্বে আয়োজন করা হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। সে আলোকে এ বছর ১২ জানুয়ারি শুক্রবার ফজর নামাজের পরপরই আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

২০১৬ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় যোগদানের ব্যাপারে ৬৪ জেলার অংশগ্রহণকারীদেরকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক বছর পর পর সবাই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ প্রতি বছর ৩২ জেলার লোকজন ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। আর এ ৩২ জেলার অংশগ্রহণকারীদেরকেও আবার দুই পর্বে বিভক্ত হয়ে অংশ গ্রহণ করতে হবে। তবে বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণকারীরা প্রতি বছরই বিশ্ব ইজতেমা অংশগ্রহণ করতে পারবে

বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, এ বছর দুই ধাপে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবে দেশের ৩২টি জেলার মুসল্লিরা। দুই পর্বের ৬ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচেছ।

তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে প্যান্ডেল, মঞ্চ, মুসল্লিদের পারাপারের জন্য টঙ্গী তুরাগ নদীর উপর ভাসমান সেতু, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব প্রস্ততিমূলক কাজ চলছে। ইতি মধ্যে মাঠের ৮০ ভাগ উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হয়েছে। বাকী কাজ ও শেষ করা হবে। প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমার ময়দান প্রস্তুতির কাজ তাবলিগ জামায়াতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরাই উদ্যোগ নিয়ে করেন।

গিয়াস উদ্দিন আরও জানান, মুসুল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইজতেমা ময়দানে জায়গা কম থাকায় ২০১৬ সাল থেকে ৬৪ জেলার মুসল্লিদের ৩২ জেলা করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এই ৩২ জেলার মুসল্লিদের মধ্যে আবার ১৬ জেলা করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিবছর ১৬ জেলা করে দুই ধাপে ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন বিশ্ব ইজতেমায়। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা যার যায় জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমায় অংশ নিতে পারছেন। ২০১১ সালের আগে এক ধাপে অনুষ্ঠিত হতো বিশ্ব ইজতেমা। ওই সময় ৬৪ জেলাসহ বিদেশি মুসল্লিরাও একসঙ্গে অংশ নিতেন।

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার অয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সাল থেকে মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জায়গা কম থাকায় ৬৪ জেলার মুসল্লিদের ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি বছর ৩২ জেলার মুসল্লি দুই ধাপে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেন। অন্য ৩২ জেলার মুসল্লি আগামী বছর অংশ নেবেন। ২০১১ সালের আগে প্রতি বছর এক ধাপেই অনুষ্ঠিত হতো বিশ্ব ইজতেমা।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেওয়া ৩২ জেলার মুসল্লিরা হলেন- ঢাকা, শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, ঝিনাইদহ, জামালপুর, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, নরসিংদী, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, ফেনী, ঠাকুরগাঁও, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা এবং পিরোজপুর জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন।

এদিকে, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল জানান, ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমাকে সফল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আলোকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্যবিভাগ, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, বিআরটিসি, বিশেষ ট্রেন সার্ভিস মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

অপরদিকে, টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফিরোজ তালুকদার জানান, চলতি বছরে অনুষ্টিতব্য দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার পুলিশ,র‌্যাব,ডিবি পুলিশ সহ প্রায় ১০ হাজার আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে টঙ্গীতে এসে জড়ো হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930