সর্বশেষ:
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া

দুই রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

আকাশবার্তা ডেস্ক :

একাত্তের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচ রাজাকারের মধ্যে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।
এর মধ্যে নেছার আলী ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আর শামসুল আলম চৌধুরী, মোবারক ও ইউনুছকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ পেয়েছেন। এই পাঁচ আসামির মধ্যে ইউনুছ ও উজের রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের দুই আসামির সাজা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করতে হবে।
একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে।
নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের মামলায় রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। তবে পলাতক আসামিদের সে সুযোগ নিতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

এর আগে, বুধবার বেলা সাড়ে ১০টার আদালত বসার পর মৌলভীবাজারের পাঁচ আসামির রায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে তার আগেই কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। তিন সদস্যের এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম প্রারম্ভিক বক্তব্যে জানান, এ মামলায় তারা যে রায় দিচ্ছেন, তা ২০২ পৃষ্ঠার। পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার রায়ের সার সংক্ষেপের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন। বিচারপতি আমির হোসেন পড়েন রায়ের দ্বিতীয় অংশ। সবশেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাজা ঘোষণা করেন। রায়ের পর আসামি ইউনুছ আহমেদ ও উজের আহমেদ চৌধুরীকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর এ মামলার পাঁচ আসামির বিচার শুরু করে আদালত। ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত রায় আসা ৩০টি মামলার ৬৭ আসামির মধ্যে তিনজন বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মোট ৬৪ জনের সাজা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৮ যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে।

এ মামলায় প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে পঞ্চমটিতে ছিল গণহত্যার অভিযোগ। একাত্তরের ২৯ নভেম্বর দক্ষিণখোলা গ্রামে হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন হিন্দু বাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে পাকিস্তানি বাহিনী আর রাজাকাররা। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সেসব বাড়ির বাসিন্দাদের। ভাঙচুর চালানো হয় হিন্দুদের মন্দিরে। ওই গ্রামের অন্তত ১৪ জন হিন্দুকে নির্যাতন করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে বা গুলি করে হত্যা করা হয়। স্বজনরা পরদিন তাদের লাশ পাওয়ার পর ভয়ে কোনো ধর্মীয় আচার ছাড়াই মাটিচাপা দেয়। সেই কবরে এখন শহীদদের জন্য একটি নামফলক বসানো রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই বর্বরতার দায়েই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বাকি তিন আসামির হয়েছে আমৃত্যু সাজা।

২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পর ২০১৬ সালের ২৬ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
সেখানে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে সামছুল হোসেন তরফদার একাত্তরে আল-বদর বাহিনীর এবং নেছার আলী রাজাকার বাহিনীর স্থানীয় কমান্ডার ছিলেন। বাকি তিনজন রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হন।

প্রসিকিউশনের আবেদনে ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওইদিন বিকালেই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের উজের আহমেদ চৌধুরীকে মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও ইউনুছ আহমদকে তার সোনাটিকি গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই বছর ৮ ডিসেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু করে। ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও তাপস কান্তি বল; আর ইউনুছের পক্ষে আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার ও ওজায়েরের পক্ষে আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত বছরের ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে। এরপর গতকাল মঙ্গলবার জানানো হয় এ মামলার রায় বুধবার (১০ জানুয়ারি) ঘোষণা করা হবে।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930