বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

বয়ারচরে লালসালু দানবাক্স; উড়ছে নিশান

প্রতিনিধি, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) :


লক্ষ্মীপুরে ঐতিহাসিক বয়ারচরের দুটি বয়ার পাশে লালসালুর ন্যায় দানবাক্স স্থাপন করে ওড়ানো হয়েছে লাল সাদা নিশান (পতাকা)। ফলে যে কোন সময় বেদখলের অপেক্ষায় রয়েছে জেলার ঐতিহাসিক এবং প্রতœতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্বলিত বয়া দুটি।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভীরহাট সংলগ্ন বয়ারচরে প্রায় শত বছর যাবত অযতেœ পড়ে আছে এ ঐতিহাসিক নির্দশন দুটি। স্থানীয়রা বলছে ঐতিহাসিক এবং প্রতœতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্বলিত বয়া দুটি সংরক্ষণ করা খুবই জরুরী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালি চরের মাঝখানে জনমানবহীন এলাকায় কে বা কারা বয়া দুটির পাশে দুটি খুঁটি পুঁতে দিয়ে চাঁদ তারা খচিত দুটি লাল সাদা নিশান উড়িয়ে নীচে একটি দানবাক্স ঝুলিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে “বয়াশাহ” মাজারে পরিণত হতে পারে বয়া দুটি। কারণ দীর্ঘদিন পড়ে থাকা বয়া দুটিকে স্থানীয় কেউ কেউ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নানা বিশ্বাস করতেও শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

বয়ারচরে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসনামলে মেঘনা নদী বর্তমান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শহর কসবা, ফরাশগঞ্জ, ভবানীগঞ্জের পাশ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহিত ছিল। প্রমত্তা মেঘনার এ শাখাটির নাম ছিল কুশাখালী নদী। সেই কুশাখালী নদীর ভাঙ্গনে লন্ডভন্ড হয়েছে তৎকালীন বহু জনপদ। বয়ারচরের পাশে বর্তমান ফরাশগঞ্জ ছিল নৌ-বন্দর। এখানে বহু বড় বড় জাহাজ ভীড় করতো। সে সময় বড় জাহাজের জন্য বৃটিশরা এখানে স্থাপন করে কয়েকটি বয়া। ওই বয়ার মধ্যে বর্তমান বয়া দুটিও ছিল। কাছ থেকে দেখা যায় লোহার তৈরি বয়া দুটিতে আংটা আছে। বয়া দুটি যে জমিতে আছে সে জমিতে কোন ফসল দেখা যায়নি। পাশে রাখাল বালকদের গরু চরাতে দেখা গেছে।

স্থানীয় রহমান মিয়া জানান, এ বয়া দুটিকে দেখতে বিভিন্ন সময় স্থানীয় লোকজন আসে এখানে। তবে সরকারি কোন লোকজনকে তিনি কখনো আসতে দেখেননি। রহমানের মতে এ বয়া দুটি সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) নজিব উল্লাহ জানান, ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে চর জাগতে জাগতে মেঘনা নদীর সীমানা চলে যায় প্রায় ওখান থেকে ৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, সেখানে শুরু হয় নতুন জনপদ। তখন মাটিতে চাপা পড়ে যায় অসংখ্য বয়া। স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে এ ২টি বয়াই দেখা যায়। বয়া দুটির নামানুসারে এ চরটির নামকরণ করা হয় বয়ারচর।

তিনি জানান, শুধু লক্ষ্মীপুরেই না পাশের নোয়াখালী জেলাতেও আছে একটি বয়ারচর। তবে ওখানে এ রকম সরাসরি কোন বয়া দেখা যায়না। সে জন্যই তার মতে, এ বয়া দুটি ঐতিহাসিক গুরত্ব বহন করে। বয়াগুলো স্থাপনের বয়স শতাধিক বছর হবে বলে তার ধারণা এবং বয়াগুলো দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য খুবই মূল্যবান।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, সরকারিভাবে বয়া দুটিকে ওখানেই সংরক্ষণ করা খুবই জরুরী, কেননা এর মধ্যে লুকায়িত আছে আমাদের অতীত ইতিহাস।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০