নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের নামে চাঁদাবাজি ও গ্রাহকদের হয়রানি করার অভিযোগে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিকালে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এ তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এরআগে সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের প্রায় ১৭ জন গ্রাহক চাঁদাবাজি ও হয়রানি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই বিষয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে সদর থানায় পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগিরা।
জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি দালালচক্র সাধারণ মানুষদের ভুল বুঝিয়ে মিটার প্রতি ৩ থেকে ৮ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগিরা জানান, চররুহিতার গ্রামের তারাগাজী কবিরাজ বাড়ির সফিক আমিনের ছেলে মো. শিপন ও মো. মিলন প্রায় বছরখানেক আগে প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে টাকা দাবি করে। একই গ্রামের হোসেন মেস্ত্রী বাড়ি, আলাউদ্দিন মুন্সী বাড়ি, কবিরাজ বাড়ি ও তছলিমের বাড়ির প্রায় ২৯টি পরিবারের নিকট থেকে ৩ হাজার থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। চাঁদা আদায়ের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী সফিক আমিন নিজেও জড়িত বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেন। সম্প্রতি তছলিমের বাড়ি সংলগ্ন বিদ্যুতের একটি খুঁটি স্থাপনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন শিপন।
ভুক্তভোগি হোসেন আহম্মদ, জরিনা বেগম, আনোয়ারা ও খুরশিদা বেগম জানান, চাঁদা দেওয়ার বিষয়ে কোথাও কিছু বলতে গেলেই বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শিপন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যুতের জন্য আমি কোনো টাকা বা চাঁদা তুলিনি। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগিদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শাহজাহান কবীর বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে একজন এজিএম, একজন ডিজিএম ও একজন ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান বিদ্যুৎ বিভাগের এই কর্মকর্তা।
আরএইচএ/এবি