আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইয়াবার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কোস্টগার্ডের অভিযান চালানো হচ্ছে। আর এই অভিযানের ফলে গত চার মাসেই ৩১২ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলের দুটি উপায় রয়েছে।
প্রথমত, সরবরাহ বন্ধ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, চাহিদা কমাতে হবে। গতকাল সোমবার কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক বলেন, পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক সেবন বাড়ে। রাত জাগতে শিক্ষার্থীরা ইয়াবা সেবন করে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ভর্তিপরীক্ষা, পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপের সঙ্গে যোগসূত্র আছে কিনা, তা গবেষণা করে দেখা উচিত।
কারণ পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের অনেকেই নির্ঘুম থাকতে ইয়াবা সেবন করে। এটা শিক্ষার্থীদের একটি ভ্রান্ত ধারণা। রাতে পড়ার জন্য ঘুম তাড়াতে আরও উপায় আছে। চোখে পানি দেওয়া যায়, হাত-মুখ ধুয়ে আসা যায়। পড়তে হলে ইয়াবা সেবন করতে হবে কেন? আর এই ইয়াবার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
ডিজি বলেন, ছেলেমেয়ে যদি দিনে না ঘুমিয়ে অনেক রাত জেগে পড়াশোনা করে তাহলে বাবা-মাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তাকে প্রশ্ন করতে হবে। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির সঙ্গে এক বৈঠকের বরাত দিয়ে কোস্টগার্ড মহাপরিচালক বলেন, ‘সুচি একটি মিটিংয়ে বলেছেন, তাদের দেশের ৭-৮ বছরের শিক্ষার্থীরাও ইয়াবা সেবন করে রাত জাগে পড়ার জন্য। তাদের দেশেও এর ভয়াবহতা রয়েছে। আর মাদক প্রতিরোধে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন আওরঙ্গজেব চৌধুরী।
প্রথমত, সরবরাহ বন্ধ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, চাহিদা কমাতে হবে। ইয়াবার চাহিদা না কমালে সরবরাহ বন্ধ করা যাবে না বলেও মত দেন তিনি। উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্টগার্ডকে অল্প জনবল নিয়ে কাজ করতে হয়। আড়াই হাজার জনবলের মধ্যে সবসময় সর্বোচ্চ দুই হাজার থাকে। বাকিরা প্রশিক্ষণ ও ছুটিতে থাকে। এর মধ্যে ৮৬ স্পটে জাটকা ধরা প্রতিরোধেই কাজ করে কোস্টগার্ড।
এছাড়াও সুন্দরবনেও নিয়মিত টহল দেয়। কোস্টগার্ডের ৪ হাজার ৭০০ জনবলের অনুমোদন রয়েছে। ছোট্ট এই বাহিনীর জনবল নৌবাহিনী থেকে দেওয়া হয়। কম জনবল নিয়েই বর্তমানে ভালো কাজ করছে বলে মূল্যায়ন করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কোস্টগার্ডের অভিযানে গত ২০১৬ সালে কোস্টগার্ডের অভিযানে ২৯৩ কোটি ৩৪ টাকার টাকার ইয়াবার চালান আটক করা হয়। আর ২০১৭ সালে ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ইয়াবা আটক করা হয়েছে। চলতি বছরের গত ৪ মাসে ৬২ লাখ ৩৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৩১২ কোটি টাকা হবে।
সুত্র : এএইচ/আমার সংবাদ