আকাশবার্তা ডেস্ক :
আগামী ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রথমে সমঝোতা করে নেতৃত্ব বাছাইয়ের চেষ্টা হবে। আর সমঝোতা না হলে ভোট হবে।
বুধবার (২ মে) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে হওয়ার সেভাবেই হবে। ইতোমধ্যে কে কে প্রার্থী তাদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি আছে। তালিকায়ে আসা আগ্রহীদের ডেকে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। হলে এই কমিটির প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে। এতে সফল না হলে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোট হবে।
তবে ভোটের মাধ্যমে হওয়ারও একটা ঝামেলা আছে। তারা ইয়াং ছেলেপুলে, ভোটের মধ্যে অনেক কিছুই হতে পারে। তারা প্রভাবিত হতে পারে। তবে আমরা দেখবো যদি ভোটের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব এসেছে কিনা। না এলে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা জানেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে একটা উপযুক্ত বয়সসীমা রয়েছে, তাদের ছাত্র হতে হবে। এদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও।
আর বারবার আলোচনায় এসেছে সংগঠনে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধ রাজনৈতিক আদর্শের পরিবারের সদস্যরাও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছে, বারবার এটি প্রমাণ হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও সইতে হয়েছে সংগঠনটির।
নানা সময় দেখা গেছে, নেতারা দল ভারী করতে বিতর্কিতদেরকে সংগঠনে নিয়ে আসে। আবার টাকার বিনিময়ে পদ পাওয়ার বিষয়টিও আর গোপ নয়। আর এবারের জাতীয় সম্মেলনের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
আর এই ঢেলে সাজাতে নতুন মডেল কী হবে, সেটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, অবিতর্কিত, যাদের নিজেদের বা পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তাদেরকে নেতৃত্বে আনতে চাইছেন শেখ হাসিনা।