-
- গণমাধ্যম, জাতীয়
- নির্বাচনে গণমাধ্যমের কাজে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ হচ্ছেনা : ইসি
প্রতীকি ছবি
- আপডেট : May, 9, 2018, 1:03 pm
- 576 জন পড়েছেন
স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের জন্য কোনো নীতিমালা করা হবে না এবং নতুন বিধিনিষেধও আরোপ করা হচ্ছে না। বললেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে ‘গণমাধ্যমে নির্বাচনী সংবাদ, ফলাফল সংগ্রহ ও প্রচার বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি একথা বলেন।
তবে নির্বাচনের দিন সংবাদ সংগ্রহ, সরাসরি সম্প্রচার ও ভোট কেন্দ্রে ইসির দেয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান সচিব।
কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়- প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোট কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না, সাংবাদিকরা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না, কোনো প্রকার নির্বাচনী উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকবেন, সাংবাদিকরা প্রার্থী বা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার জন্যে সংবিধান, নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান মেনে চলবেন।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় নতুন কিছু প্রস্তাবে সংযোজন করা হয়। তাতে বলা হয়- ভোটদানের ছবি তোলা যাবে না, ভিডিও করা যাবে না। ভোট কেন্দ্রে কর্মরতদের সাক্ষাৎকার নেয়া যাবে না, পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না, ভোট কক্ষের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না, ভোটগণনার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না এবং একইসঙ্গে একাধিক সাংবাদিক একই কক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না।
গণমাধ্যম কর্মীরা আলোচনায় অংশ নিয়ে ইসির উদ্যোগের সমালোচনা করে জানান, ভোটকে সামনে রেখে আকস্মিকভাবে নীতিমালা প্রণয়নের তৎপরতায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে বেশ সচেতনভাবেই কাজ করছেন। বিদ্যমান আইন-বিধির যথাযথ প্রয়োগ হলে নীতিমালার প্রয়োজন পড়বে না। পর্যবেক্ষণ নীতিমালা মেনে ও সাংবাদিক পরিচয়পত্রের মধ্যে থাকা নির্দেশনা অনুসরণ করেই কাজ করছেন গণমাধ্যম কর্মীরা।
গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা না করে অবাধ, সুষ্ঠু ভোট আয়োজন করার বিষয়ে কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের পরামর্শ দেন তারা।
পরে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, গণমাধ্যমের জন্য প্রস্তাবিত নীতিমালা করা হচ্ছে না। নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপের উদ্দেশ্য আমাদের নেই। গণমাধ্যম আমাদের সহায়ক শক্তি। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে ভোটের সংবাদ আরও কিভাবে সুচারুভাবে প্রচার করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ কার্যকর করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে কর্মরতদের সাক্ষাতকার নেয়া যাবে না এমন বিষয় যুক্ত রাখা হবে না।
সচিব আরও বলেন, স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম কর্মীরা কাজ করে, নিজেদের নীতিমালা মেনে কাজ করে। আগামীতে এ কাজ আরও সুন্দর হবে আশা করি। কোনো ধরনের ভুল বুঝাবুঝি যেন না ঘটে সে বিষয়ে নজর রাখা হবে। যেকোনো অনিয়মের বিষয়েও কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
গণমাধ্যমের প্রশংসা করে তিনি জানান, ভোটের দিন অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দেখেই ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় সেল থাকে। সেক্ষেত্রে ফল প্রচার ও সুব্যবস্থাপনায় একযোগে কিভাবে কাজ করা যায় তাও দেখা হবে।
এ সময় ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান, যুগ্ম-সচিব মিজানুর রহমান খন্দকার, এসএম আসাদুজ্জামান, ফরহার আহাম্মদ খান, উপ-সচিব ফরহাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মধ্যে সৈয়দ আশিক রহমান, আশিস সৈকত, জ ই মামুন, মোস্তফা ফিরোজ, জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল, মনজুরুল হক, মঈনুল হক চৌধুরী, কাজী জেবেল, সাইদুর রহমান, রাজা রায়, একরামুল হক সায়েম, আরাফাত সিদ্দিকী, রাসেল আহমেদ, মুকিমুল আহসান হিমেল, তানিয়া আহমেদ, আসমা মিতা, মো. হুমায়ূন কবীর, বেলায়েত হোসেন, ইমরান হোসেন, সিরাজুজ্জামান হেলালা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এই বিভাগের আরও সংবাদ