আকাশবার্তা ডেস্ক :
বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের কিশোরী মুক্তামণি তার দুঃখের জীবন ছেড়ে চলে গেলো না ফেরার দেশে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাবা-মায়ের সামনেই বুধবার (২৩মে) সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে মৃত্যু হয় ১২ বছরের শিশুটির।
মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “গত কয়দিন ধরেই তো অবস্থা খুব খারাপ হচ্ছিল। আজ ভোরে বমি শুরু হল। একবার পানি খেতে চাইল। ওর দাদি গেল পানি আনতে। পানি আনতে আনতে সব শেষে।” মুক্তামণির মৃত্যুতে তার বাড়িতে এখন শুধু কান্নার রোল।
ইব্রাহিম হোসেন আরও জানান, তিনি আবার ঢাকা মেডিকেলে যোগাযোগ করেছিলেন, চিকিৎসকরা ঈদের পর মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তার আগেই সব ছেড়ে চলে গেল মুক্তামনি।
মা আসমা খাতুনের কিছু বলার ভাষাও আর নেই।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ফরহাদ জামিল বলেন, মঙ্গলবার রাতে মুক্তামণির বাড়িতে গিয়ে দেখি তার গায়ে প্রচণ্ড জ্বর। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে কিছু ওষুধ দেই। আজ সকালেও তার গায়ে জ্বর ছিল।
সাতক্ষীরায় জন্মের দেড় বছর বয়স থেকে মুক্তামণির ডান হাতের সমস্যা শুরু হয়। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ৬ বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার ডান হাত ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। সে বিছানাবন্দি হয়ে পড়ে। মুক্তামণির রোগ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
হাতে বিকট আকৃতির ফোলা নিয়ে গত ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয় মুক্তামণি। চিকিৎসকরা তার রোগ শনাক্ত করেন রক্তনালীর এক ধরনের টিউমার হিসেবে, যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় হেমানজিওমা। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকের একটি দল মুক্তামণির হাতে ছয় দফা জটিল অস্ত্রোপচার করেন। কিছুটা ভালো বোধ করলে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর তাকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেন চিকিৎসকরা।
কিন্তু গত কিছুদিনে মুক্তামণির অবস্থার অবনতি হয়। হাতের ক্ষতস্থানে আবারও পচনের লক্ষণ দেখা যায়,সেই সঙ্গে জ্বর। অবস্থা এতোটাই খারাপ হয়ে যায় যে দাঁড়ানোর মত শক্তিও ছিল না মুক্তামণির।
জানাজা বাদ জোহর :
মুক্তামণির নামাজে জানাজা বুধবার (২৩মে) বাদ জোহর তার নিজ বাড়ির সামনে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। মুক্তামণির বাবা ইব্রাহিম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।