আকাশবার্তা ডেস্ক :
গত ২৫ ও ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গ সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমি শুধু এটুকু বলব, না বলা কথাটি রবে না গোপনে।’
বুধবার (০৬জুন) সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নে শেখ হাসিনা সংক্ষেপে এই জবাব দেন। শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন এবং চুরুলিয়ায় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিয়ে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি নিতে গত ২৫ ও ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতায় ছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। আর বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের পর দুই প্রধানমন্ত্রী এক ঘণ্টা একান্ত বৈঠক করেন।
এই বৈঠকের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যেমন কোনো বিবৃতি আসেনি, তেমনি বাংলাদেশও কিছু জানায়নি।
দেশে ফেরার চারদিন পর এই সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনেও ওই বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত বলেননি প্রধানমন্ত্রী। কেবল জানান, দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা হয়েছে। এই সফরে বাংলাদেশের দৃষ্টি ছিল তিস্তা চুক্তির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয় কি না। তবে দুই সরকার এ বিষয়ে কিছুই বলছে না।
বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। কিছু সমস্যা এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তবে সেসব বিষয় তুলে সেই সুন্দর অনুষ্ঠানকে ম্লান করতে চাই না।’
ফখরুল ইমাম মনে করছেন, কোনো শব্দ উচ্চারণ না করে দাবি জানানোর দারুণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কিছু না বলেই তিনি অনেক কিছু বলে গেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেই না বলা কথাটা কী আমরা শুনতে পারি? যদি সেটা গোপন না হয়।’
প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে জবাব দেন খুবই সংক্ষেপে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গানের কলির সঙ্গে মিলিয়ে বার্তা দেন তিনি। বলেন, ‘আমি এটুকু বলব, না বলা কথাটি, রবে না গোপনে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একেকটি কৃত্রিম উপগ্রহের আয়ুষ্কাল থাকে ১৫ বছর। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’এরও সেই সময় চলে আসবে। এজন্য এখন থেকেই বঙ্গবন্ধু-২ তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একেকটি স্যাটেলাইট তৈরি করতে ৫/৬ বছর সময় লেগে যায়। যেহেতু পনেরো বছর এটির আয়ুষ্কাল, সেহেতু ৫/৬ ব্যবহারের পর সেটির আয়ু ক্ষয় হতে থাকে।’ ‘তাই কোনোরকম সমস্যা যেন সৃষ্টি না হয় এবং একটা গেলে যেন আরেকটা সাথে সাথে চালু হয়ে যেতে পারে, সেটি মাথায় রেখেই আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চায়। ‘যখন নতুন যে প্রযুক্তি আসবে, সেটা যেন আমরা ধারণ করতে পারি, সেটা নিয়ে গবেষণা করতে পারি এবং সেটা যেন ব্যবহারোপযোগী হয়, সেই কাজই আমরা করব।’
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ দুই ব্যক্তির মালিকানা- বিএনপির এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ সংসদে তুললে এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’এর মালিক বাংলাদেশ সরকার। বিএনপি অর্বাচীনের মতো কথা বলছে।
শেখ হাসিনা বলেন, স্থল ও জলসীমা জয়ের পর মহাকাশ জয়ের যাত্রা ছিলো এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। স্যাটেলাইট নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা অর্বাচিনের মতো কথা বলে তারা দেশ চালালে দেশের উন্নতি হবে কীভাবে?
গত ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে মহাকাশে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট। এরই মধ্যে এটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে গেছে। সরকার এই উৎক্ষেপণকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তবে বিএনপির প্রতিক্রিয়া সংশয়পূর্ণ। উৎক্ষেপণের পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, এর মালিকানা বাংলাদেশের নেই। এর মালিকানা দুই ব্যক্তির কাছে চলে গেছে।
সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী বিএনপি নেতার এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইটের মালিকানা অবশ্যই বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশ সরকারই এর মালিক। যারাই ভাড়া নেবে, যেটুকু সে ভাড়া নেবে, সেটুকুর সে মালিক হবে তারা। দুটি ব্যক্তি তো এটার মালিক হতে পারে না। এই ধরনের মন্তব্য করাটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
স্যাটেলাইটটির ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে এবং বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য ২০টি যথেষ্ট বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী জানান, বাকিগুলো সার্কভুক্ত দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তানে ভাড়া দেয়া যাবে। ‘দুই ব্যক্তি এটার মালিক কীভাবে হলো, এটা আমি বলতে পারব না। এ ধরনের কথা তারা কেন বললেন?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো মানুষের যদি দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকে, কেউ যদি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত হতে, মাথা উঁচু করে চলবে এই ধরনের চিন্তা চেতনা যদি কারও থাকে, তাহলে কেউ ওই ধরনের মন্তব্য করতে পারবে না।’ এই উৎক্ষেপণে দেশে বিদেশে সব জায়গায় মানুষ খুশিতে উদ্বেলিত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন সব মানুষের এত খুশি, বিএনপির কেন দুঃখ?’
এই স্যাটেলাইট থেকে যেসব সেবা পাওয়া যাবে তার একটি ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টেলিভিশন টু হোম)। এই সেবা দুই জন দেবেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘জানি না, সেটাকে মিন করেছেন, সেটাকে গুলিয়ে ফেলেছেন কি না। কিন্তু দুই ব্যক্তিকে পুরো স্যাটেলাইট দিয়ে দেয়া হয়েছে, এটা আমার কাছে বোধগম্য নয়।’ ‘এভাবে অর্বাচীনের মতো, অজ্ঞর মতো কথা বলা, তাদের পক্ষেই সম্ভব। এ থেকেই জাতি বুঝতে পারে তারা আসলে দেশকে ভালোবাসে না।’
এএইচ/আমার সংবাদ