আকাশবার্তা ডেস্ক :
অবিরাম প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় ও কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উপজেলার বড়পুল পাড়ায় দুই পরিবারের চারজন, ধর্মচরন কার্বারি পাড়ায় একই পরিবারের চারজন, হাতিমারা এলাকায় দুইজন এবং গিলাছড়ি ইউনিয়নের মনতলা এলাকায় একজন মারা গেছেন।” এছাড়া মহেশখালীতে মারা গেছেন দুইজন।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ত্রিদিব কান্তি দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার দিবাগত রাতে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় এ প্রাণহানি ঘটে। গ্রামগুলো পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসী নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় বুড়িঘাট ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামে পাহাড় ধসের ঘটনায় আরও ১ জন নিখোঁজ রয়েছে।
জানা যায়, কয়েক দিনে টানা ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ধর্মচান পাড়ায় ও বড়পুল পাড়ায় পাহাড় ধসে মঙ্গলবার সকালের দিকে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে ৮ জনের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। এ হাতিমারা গ্রামে ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়া হাতিমারা এলাকায় রীতা চাকমা ও রিটেন চাকমা ও অপর একজন নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন নিখোঁজদের উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। দমকল বাহিনী ও পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছে।নানিয়ারচর থানার ওসি আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নানিয়ারচরে নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- উপজেলার বড়পোল পাড়ার সুরেন্দ্র লাল চাকমা (৫৫), তার স্ত্রী রাজ্য দেবী চাকমা (৫০), মেয়ে সোনালী চাকমা (১৩) ও রোমেন চাকমা (১৪)। এ ছাড়া ধরমপাশা কার্বারিপাড়ার ফুলজীবী চাকমা (৫৫), ইতি দেওয়ান (১৯), স্মৃতি চাকমা (২৩), তার ছেলে আয়ুব দেওয়ান (দেড় মাস)। তবে অন্য দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় এবং উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাছ চাপায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া এলাকা এবং উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তেলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এতে নিহত হয়েছেন- মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া মতিবর পাড়ার এলাকার বাসিন্দা আলী চাদেঁর ছেলে কৃষক মো. আবুল কালাম প্রকাশ বাদশা মিয়া (৪৮) এবং উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জামতলী এলাকার হোসেন আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২০)।