আকাশবার্তা ডেস্ক :
বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করতে হয়েছে। নির্বাচন না হলে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারতো।৫ জানুয়ারির নির্বাচন করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
বুধবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার (অব.) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাবেদ আলী, মো. শাহনেওয়াজ, মোহাম্মদ আবু হাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ ছিলো ৫টা বছর। আমরা তা মোকাবেলা করে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের কাছে কখনও কোনো ফোন কল, কোনো চাপ আসেনি। নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছি।
তিনি আরো বলেন, স্মার্ট কার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্রুত নাগরিকরা স্মার্ট কার্ড পেয়ে যাবেন।’ এসময় তিনি দায়িত্ব পালনকালে কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের বর্ণনাও দেন।
সিইসি মন্তব্য করেন, গত পাঁচ বছরে আমরা অনেক কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। সেগুলো আমরা সফলতার সঙ্গে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকা- আমরা গতিশীল করেছি। আমরা সাফল্যের সঙ্গে ছয়টি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, সমঝোতা না হওয়ায় আমাদের জন্য নির্বাচন করা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে যায়। তখন জাতির ক্রান্তিলগ্ন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমাদের নির্বাচন করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো দেশজুড়ে সহিংস কার্যক্রম চালিয়ে যান মালের ক্ষতি করছিল, তখন নির্বাচন না হলে অসাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। তাই নির্বাচন করতে গিয়ে কর্মকর্তারা অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাদের সাহসিকতায় দেশে আজ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে।
এই সংসদে দেড় শতাধিক সাংসদ বিনা প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিনা প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার বিষয়টি আইনেই আছে। মাঠ ছেড়ে দিলে তো প্রতিপক্ষ গোল দেবেই। এটা রাজনীতির খেলা। উন্নত বিশ্বে এর চেয়ে অনেক বেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের রেকর্ড আছে।’
দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা যে খারাপ হয়ে গেছে এমন অভিযোগের বিষয়ে রকিবউদ্দীন বলেন, ‘আমরা নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল অবস্থায় নিয়ে যাইনি। দেশে কথায় কথায় মারামারি বেড়ে গেছে। এটা এক ধরনের সামাজিক অবক্ষয়। মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুতার অভাবের কারণে হানাহানি বেড়েছে। নতুন কমিশন সবাই অভিজ্ঞ, তারা সফল হবে এটাই আমরা আশা করি।’
২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। গতকাল ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হলো এই নির্বাচন কমিশনের।
গেলো সোমবার রাতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সাবেক অতিরিক্ত সচিব নুরুল হুদাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের নতুন কমিশন অনুমোদন করেন।
নিয়োগ পাওয়া এই পাঁচজন হলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম, মো. রফিকুল ইসলাম।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা শপথ নেবেন। ওই দিন বিকাল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।