আকাশবার্তা ডেস্ক :
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তো কারাগারে চিকিৎসা পাচ্ছেন, সঙ্গে কাজের মেয়ে পেয়েছেন। অথচ আমি ছয় বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা তো দূরের কথা ডাক্তারের চেহারাও দেখি নাই। খালেদা জিয়া তো চেয়েছিলেন আমি কারাগারেই মারা যাই। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।’
শুক্রবার (২২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর হয়ে রংপুর সার্কিট হাউজে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।এর আগে ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমান বন্দরে অবতরন করে সরাসরি রংপুর সার্কিট হাউজে আসেন এরশাদ। এ সময় জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। সফরসঙ্গী হিসেবে এরশাদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহাম্মেদ বাবলু, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর খালেদ আখতার, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
এরশাদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান ছিলেন। তার স্ত্রী হিসেবে তিনিও সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে পারেন। আমি নিজেই সেখানে চিকিৎসা নেই।’ ‘আমি ছয় বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসা পাইনি। আর উনি গোঁ ধরে বসে আছেন তার ইচ্ছে অনুযায়ী চিকিৎসা নেবেন। এটা হতে পারে না।’
মাদক নির্মূলে ক্রসফায়ারকে সমর্থন করে এরশাদ বলেন, ‘মাদক দমন করতে গিয়ে কিছু লোক যদি মারা যায় তা গ্রহণ করা উচিত। যদিও আমি বিনা বিচারে মৃত্যু সমর্থন করি না। তার পরেও যারা মাদক ব্যবসা করে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে তাদের মৃত্যুতে আমাদের কোনও শোক নেই।’
তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট চুনোপুটি মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়লেও গডফাদাররা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে। এখন তাদের রাজপ্রাসাদ খালি, রাজা নেই। যতদিন পর্যন্ত মাদক নির্মূল করা যাবে না ততদিন অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত।’
আসন্ন গাজীপুর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরাই জয়ী হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাদের অবস্থা ভালো। তাই নানাবিধ কারণে তারাই জয়ী হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে বলে সিইসি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) আবারও আশ্বস্ত করায় আমরা দেখতে চাই নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্টুভাবে সম্পন্ন হবে।’
এরশাদ বলেন, ‘দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কেউ জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে আটকাতে পারবে না। আর যদি শুধু সিল মারার নির্বাচন হয় তাহলে আমরা ক্ষমতায় যেতে পারবো না।’
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে অবহেলা করবেন না। জাপাকে সম্মান দেন। কারণ জাতীয় পার্টির ছাড়া কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না।’ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী নির্বাচন আমাদের বাঁচা-মরার নির্বাচন। ভুল করলে চলবে না। যে প্রার্থী দেব তাকে জয়লাভ করাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাকে রংপুরের ২২টি আসন উপহার দিন। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাব। আমরা ক্ষমতায় গেলে জনগণকে ১০ টাকা সের চাল খাওয়াবো। বর্তমানে ৬০ টাকা কেজিতে চাল খেয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সে দিকে সরকারের কোনো খেয়াল নেই। তারা লুটপাট নিয়ে ব্যস্ত।’
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ সরকারের আমলে সর্বত্র দলীয়করণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথা ছাড়া প্রশাসন, এমনকি গাছের একটি পাতাও নড়ে না। ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটপাট করা হয়েছে। দেশে কোনো বিচার নেই। দেশের দুঃশাসন, হত্যা, গুম, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। আমরা বাল্য বিবাহের দিক থেকে এক নম্বর দেশে রয়েছি। এ সরকার মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে পারছে না। আমরা দুঃশাসনের প্রাচীর ভেঙে দেব, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বেকার সমস্যা প্রকট। চাকরি নেই, শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠছে না। অথচ দেশে ১৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর শত শত মেধাবী শিক্ষিত যুবক পাস করে বের হচ্ছে। তারা চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছে। আসক্ত হয়ে পড়ছে মাদকে।’
এরশাদ বলেন, ‘দেশের মানুষ দু’দলকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা চায় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের জন্যই দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। তাই আমরা এককভাবে নির্বাচন করবো এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবো।’