আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, ৩৫ বছরের কূটনৈতিক জীবনে বাংলাদেশের মতো কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বার্নিকাট বলেন, আমি কখনোই এমন কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখিনি। যেটা বাংলাদেশে বিরাজমান। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা সব সময় করি। এটা চলমান বলেও জানান তিনি। নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে তিনি বলেন, আমরা বন্ধু, শুভাকাঙ্খী হিসেবে চাইবো দেশে যেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। প্রত্যাশা আমাদের সেটিই থাকবে।
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বার্নিকাট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের পাশে আছে। তবে বাংলাদেশ তাদের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। রোহিঙ্গাদের হাতিয়ায় স্থানান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি। তারা কী চায় সেটিকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত। মনে রাখতে হবে তারা কিন্তু ট্রমাগ্রস্ত। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে তারা আরও ট্রমাগ্রস্ত হয়।
এদিকে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মধ্যে নেগেটিভ বিষয় চলে এসেছে, একটা ধারা। মানি না, মানবো না- এই একটি মানসিকতায় তারা ভুগছে। এটা থেকে তারা বের হতে পারছে না। দেখবেন তারা ঠিকই ইলেকশনে অংশ নেবে। কোন বিশ্বাস থেকে বলছেন বিএনপি নির্বাচনে আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কোন বিশ্বাসের বিষয় নয়। বিএনপি রাজনীতি করে। তাদেরও তো রাজনৈতিক কৌশল আছে।
তারা গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল তারা করেছে, এর পরিণাম তাদের যতটা দুর্বল, সংকুচিত দল করেছে, এলোমেলো করেছে, সেখানে তাদের ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থাকে। সেই ঝুঁকি তারা নেবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না।
তিনি বলেন, আরেকটি নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেই ঝুঁকিটা তারা নেবে বলে আমার বিশ্বাস হয় হয় না। কাজেই তারা নির্বাচনে অংশ নেবে।
মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি গোটা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে তার স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সব রকমের সহযোগিতা আমরা দেব। সরকার নোয়াখালীর হাতিয়ায় রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু নোয়াখালীর বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সেই এলাকার সন্তান হিসেবে আপনার মন্তব্য কি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করি। নোয়াখালীর মানুষ হিসেবে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। আমি সরকারের সিদ্ধান্তকেই ফলো করব। সরকারের সিদ্ধান্ত যাতে ইমপ্লিমেন্ট হয় সে ব্যাপারে আমার যা যা প্রয়াশ, দায়িত্ব আমাকে সেটা করতেই হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের একটা বিষয় যখন আমাদের উপর এসে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সংকট মোকাবেলায় তহবিল গঠন ও সাহায্য সহযোগিতায় আহ্বান করা হয়েছে। এখানে যে তহবিল দরকার আমরা তো সেটা দিতে পারছি না।
বিএনপি নতুন নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চেয়েছে। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কে কী বলে তা তো জানি না। একেকজন একেক কথা বলেন। তাদের নেতাদের মধ্যে ভিন্ন মত। আজকে তো ফখরুল সাহেব এমন একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সামনে তাদের (নির্বাচন কমিশন) কর্ম দেখার অপেক্ষায় আছেন। এটা যদি তাদের সকলের মতামত হয় তাহলে ভাল। আরেকজন আরেক কথা বলবে। কেউ আবার বলছেন জনতার মঞ্চের লোক, তাকে (সিইসি) সরে যেতে।
এখনও নাকি প্রেসিডেন্টের সুযোগ আছে সিইসিকে বাদ দেওয়ার। এসব আবোল-তাবোল কত কথা। দল এলোমেলো দুর্বল হয়ে গেলে যা হয়। এত হতাশা তাদের উপর ভর করেছে, এত বিপর্যন্ত তাদের কথাবার্তা, এলোমেলো, কারো সাথে কারো কোনো মিল নেই। তিনি আরও বলেন, সেদিন দেখলাম মির্জা ফখরুল সাহেব সার্চ কমিটি নিয়ে হতাশ, পাশাপাশি দেখলাম মওদুদ আহমেদ সাহেব আবার আশাবাদী। তারাই তো এক জায়গায় নেই, তবে আমরা কীভাবে মন্তব্য করব।