মঙ্গলবার ১৭ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ শুরু নকআউট পর্ব, নামছেন মেসি-রোনালদোরা

স্পোর্টস ডেস্ক :


গ্রুপ পর্বের কিচ্ছা শেষ। এবার শেষ ষোলোর কাহিনী শুরু। আজ শনিবার কাজানে নক-আউট পর্বে পগবার ফ্রান্সের বিপক্ষে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা। অপরদিকে, সোচিতে রোনালদোর পর্তুগাল মুখোমুখি হবে সুয়ারেজের উরুগুয়ের। ইতিমধ্যেই রাশিয়া বিশ্বকাপকে চোখের জ্বলে গুডবাই জানিয়েছেন মুলার-ওজিল আর রামোস-ইনেস্তেয়ারা।

এখন দেখার পালা, এবার কে? মেসি-রোনালদো, নেইমার-হ্যারি কেইন, নাকি সুয়ারেজ-পগবারা? আজ থেকে শুরু হওয়া শেষ আটের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোতে থাকছে টান টান উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ। এদিকে আজ যদি মেসি ও রোনালদো দু’জনেই হাসি মুখে মাঠ ছাড়েন, তাহলে আগামী ৬ জুলাই শুক্রবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই অধিনায়ক হিসেবে করমর্দন করতে পারবেন নিঝনি নভগরদ স্টেডিয়ামে সেমির লড়াইয়ে। দ্বিতীয় পর্বের সূচি অনুসারে তাই হওয়ার কথা। অবশ্য তার জন্য দুই দলকেই জিততে হবে আজ।

এবারের বিশ্বকাপে ফর্মের বিচারে রোনারদো কিছুটা এগিয়ে সুয়ারেজদের চেয়ে। প্রথম ম্যাচেই স্পেনের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু করে তিন ম্যাচে চার গোল। ইরানের বিরুদ্ধেই শুধু ছন্দে ছিলেন না তিনি, নষ্ট করেন পেনাল্টিও। একাই টানছেন দলকে। মেসি আবার শুরুই করেছিলেন আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি নষ্ট করে। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বমহিমায় হাজির তিনি। গোলও করেছেন। ক্রোয়েশিয়ার কাছে তিন গোলে হারের পর খাদের কিনারায় থাকা আর্জেন্টনাকে প্রবল চাপের মুখে তুলেছেন পরের রাউন্ডে।

মেসি-রোনাল্ডো যদি শেষ আটের ম্যাচে মুখোমুখি হন, তবে অবধারিত ভাবেই গোট বা গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম নিয়ে চর্চা চলবে। বিশ্বকাপের আগে ছাগলের সঙ্গে মেসির ছবি বেশ আলোচিত হয়েছিল । বিশ্বকাপে রোনালদো আবার ছাগল-দাড়ি রাখতে শুরু করেছেন। স্পেনের বিরুদ্ধে প্রথম গোলের পর সে দিকে ইঙ্গিতও করেছিলেন। সিআর সেভেন বনাম এলএম টেন হলে ফুটবল রোমান্টিকের স্বপ্নের ম্যাচ হয়ে উঠবে। তবে তার আগে থেকেই কিন্তু মেসিদের শিবিরে কঠিন নজর রাখছেন রোনালদো বাহিনী ।

এবারের বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অঘটন ঘটেনি তাও নয়। হৃদয় ভেঙেছে অনেকবার। বিশেষ করে জার্মান ভক্তদের। কারণ দ্বিতীয় রাউন্ড পেরুতে পারেনি ২০১৪ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। জার্মানরা না থাকায় রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে যে একটা ধ্রুবতারা খসে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি এবার নেই আফ্রিকার কোনো দেশও। এ অঞ্চল থেকে পাঁচটি দল বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব পেরিয়েছিল। নাইজেরিয়া, মিসর, সেনেগাল, মরক্কো এবং তিউনিসিয়া উড়ে এসেছিল রাশিয়ায়। কিন্তু খালি হাতেই বিদায় নিয়েছে দলগুলো। এদের মধ্যে সবথেকে বেশি আশা ছিল মিসর এবং সেনেগালকে নিয়ে। মোহাম্মদ সালাহ থাকায় মিসরকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিল ফুটবলপ্রেমিরা। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ দলটি। কপাল পোড়া সেনেগালের! সবকিছ্ইু ঠিকঠাকই ছিল তাঁদের। কিন্তু তাদের হৃদয় ভাঙে ফেয়ার প্লে’র কারণে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে বেশি হলুদ কার্ড দেখায় বাদ পড়ে সেনেগাল। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জাপান। দুই দলের হলুদ কার্ডের ব্যবধান ছিল ৬-৪। তাতেই এশিয়ার একমাত্র দল হিসেবে বিশ্বকাপে টিকে যায় জাপান।

এছাড়া এশিয়া থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইরান ও সৌদি আরব। কিন্তু গ্রুপ পর্বেই শেষ তাদের বিশ্বকাপ। বরাবরের মতো দাপট ধরে রেখেছে ইউরোপ। দশটি দেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে- ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও স্বাগতিক রাশিয়া। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ছাপিয়ে এ অঞ্চলের দলগুলোর মধ্যে ভালো পারফরম্যান্স ক্রোয়েশিয়া ও বেলজিয়ামের। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে তারা। বলার অপেক্ষা রাখে না দুই দলই রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, সুইডেনও। প্রথম রাউন্ডে পর্তুগাল ও স্পেন নিজেদের মান বাঁচিয়েছে। আজ থেকে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা শুরু করে দিয়েছেন ভবিষ্যদ্বাণীও। ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তিও।

তা এড়াতে তাই দেখে নেওয়া যাক বড় দলগুলির সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী কারা হচ্ছে। বিশ্বকাপের এই পর্বের সফরটা মোটেই সহজ হবে না ব্রাজিলের জন্য। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে ব্রাজিলকে হারাতে হবে বেশিরভাগ বড় দলকেই। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। মেক্সিকোকে হারাতে পারলে, কোয়ার্টারে ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে জাপান-বেলজিয়াম ম্যাচের জয়ী দল। সেই ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালে নেইমারদের প্রতিপক্ষ হতে পারে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, উরুগুয়ে এবং পর্তুগালের মধ্যে যে কোনও একটি দল। শেষ ষোলোতেই কঠিন পরীক্ষায় লিওনেল মেসিরা। মেসিদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল ফ্রান্স । কোনওক্রমে যদি ফ্রান্সকে হারিয়ে কোয়ার্টারে চলে যান মেসিরা তাহলে মুখোমুখি হতে হবে হয় উরুগুয়ে কিংবা পর্তুগালের। ফুটবল ফ্যানেরা অবশ্য আশা করছেন আর্জেন্টিনা ফ্রান্সকে হারাবে অন্যদিকে পর্তুগাল হারাবে উরুগুয়েকে। যাতে কোয়ার্টার ফাইনালে মেসি-রোনাল্ডো দ্বৈরথ দেখা যায়।

আর্জেন্টিনা যদি কোয়ার্টারের বেড়া টপকেও যায়, তাহলে সেমিফাইনালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও কঠিন লড়াই । সেমিতে মেসিদের সামনে পড়তে পারে ব্রাজিলও। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ যদি হয় তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বপ্নের ম্যাচ হবে। এসবই অবশ্য সম্ভাবনার কথা হচ্ছে। বিশ্বকাপে এখনও অবধি যা ফর্ম আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে তাতে তাঁরা কতদূর এগোতে পারবে তা নিয়ে সন্দিহান ফুটবল মহল।

অপরদিকে, আর্জেন্টিনার মতোই কঠিন হতে পারে রোনালদো বা সুয়ারেজদের লড়াই। সুয়ারেজ বা রোনালদো যেই জিতুক পরের রাউন্ডে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ম্যাচের জয়ী দল। সেই বাধা টপকে পর্তুগাল বা উরুগুয়ে সেমিফাইনালে গেলে তাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারে ব্রাজিল বা বেলজিয়ামের মতো বড় দল। গ্রুপ-জি-তে শীর্ষস্থানে শেষ করার দরুন প্রি-কোয়ার্টারে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের সম্মুখীন হচ্ছে বেলজিয়াম। জাপানের বাধা টপকাতে পারলে হ্যাজার্ডদের মুখোমুখি হতে হবে ব্রাজিল-মেক্সিকো ম্যাচের জয়ী দলের। সেই বাধা টপকালে লড়াইটা আরও কঠিন। সেমিতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পর্তুগাল এবং উরুগুয়ের মধ্যে যে কোনও একটি দল।

অপেক্ষাকৃত সহজ হতে পারে ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের রাস্তা। শেষ ষোলোয় স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে আয়োজক রাশিয়া। রাশিয়ার বাধা টপকে গেল ইনিয়েস্তারা মুখোমুখি হবেন ক্রোয়েশিয়া-ডেনমার্ক ম্যাচে জয়ী দলের। কোয়ার্টার টপকে সেমিতে গেলে স্পেনের সামনে পড়তে পারে ইংল্যান্ড বা কলম্বিয়ার মত দল। এক কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম পর্তুগাল, অর্থাৎ মেসি-রোনালদো সরাসরি দ্বৈরথ। অন্যদিকে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের অধিকাংশের প্রত্যাশা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দু’দলই সেমিফাইনালে উঠুক এবং একে অপরের মুখোমুখি হোক।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১