মঙ্গলবার ১৭ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চালু হচ্ছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) পরিবর্তে ই-পাসপোর্ট। সম্প্রতি একনেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প পাস করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে জার্মান সরকারের সাথে জিটুজি চুক্তির আওতায় চলতি মাস থেকেই প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই পাসপোর্টে নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে হয়রানি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল হক বলেন, একনেকে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। এখন বাকি প্রসেস চলছে। পাসপোর্ট তৈরির জন্য জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের জিটুজি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর বলা যাবে কবে নাগাদ বাস্তব কাজ শুরু হবে।বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বশেষ উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্ট ইস্যু, পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাংলাদেশি নাগরিক ও আগত বিদেশি নাগরিকদের সুষ্ঠুভাবে গমনাগমন নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এই পাসপোর্ট বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে ওই পাসপোর্টধারীর নম্বর সার্চের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব তথ্য পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ই-পাসপোর্ট বাস্তবায়ন হলে বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ বৃদ্ধি পাবে।দেশের নাগরিকদের হাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট তুলে দিতে ২০১৬ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের পাশাপাশি ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। ২১ জুন একনেকে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ই-পাসপোর্টে ইলেক্ট্রনিক ছবি, স্বাক্ষর ও দশ আঙুলের ছাপের পাশাপাশি থাকবে চোখের মণির ছবি। এছাড়া মূল পাতায় থাকবে ইলেক্ট্রনিক চিপ যাতে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য।

এছাড়া ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজ করতে ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুটি স্থলবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হবে। দশ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট বুকলেটের ২০ লাখ প্রাথমিকভাবে জার্মানি থেকে আমদানি করা হলেও দুই কোটি ৮০ লাখ পাসপোর্ট দেশেই তৈরি করা হবে। পাশাপাশি চালু থাকবে চলমান এমআরপি প্রকল্প। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ই-পাসপোর্ট হাতে পেতে পারেন পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) গাইডলাইন অনুযায়ী বাংলাদেশ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) পদ্ধতি চালু করে। কিন্তু এমআরপি ব্যবস্থায় দশ আঙুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ না থাকায় একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা ধরা পড়ে।

এর ফলে ই-পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর জার্মানি সফরের সময় ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সে দেশের প্রতিষ্ঠান ভ্যারিডোস জিএমবিএইচ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ই-পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১