-
- খেলা, শীর্ষ খবর
- টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারণ, শেষ হাসি রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়ার
- আপডেট : July, 2, 2018, 6:01 am
- 386 জন পড়েছেন
স্বাগতিক জুজু যেন পিছইু ছাড়ছে না স্প্যানিশদের। আবারো স্বাগতিকদের কাছেই হার! সেই প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে গতকাল নোভগোরদেও একই পরিনতি মেনে নিতে হলো রামোস-ইনিয়েস্তিয়াদের। এবার স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে (৪-৩) হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো পরাশক্তি স্পেন। আর এ জয়ে ৫২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের তলানির দল রাশিয়া। সর্বশেষ স্বাগতিকরা
১৯৬৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। তখন অবশ্য তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভুক্ত ছিলো। এটাই রাশিয়ার প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল। ১৯৩৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইতালির কাছে ১-০ গোলে, ১৯৫০ সালে ফাইনাল রাউন্ডে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে ৬-১ ব্যবধানে এবং ২০০২ সালে সহ-আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল স্পেন।
অপরদিকে, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বের চতুর্থ ম্যাচটিও ছিলো ইউরোপের দুই পরাশক্তি ক্রোয়েশিয়া ও ডেনমার্কের মধ্যে চরম উত্তেজনাপূর্ণ। ১২০ মিনিটের খেলায়ও কোন পক্ষ জয়সূচক গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেই টাইব্রেকারেও ছিলো শেষ মুহুর্ত্ব পযন্ত ধম বন্ধ করা উত্তেজনা। একটার পর একটা গোল মিসের মহড়ায় অবশেষে ১-১ (৩-২) গোলে শেষ হাসি ক্রোয়েশিয়াই হলো। ফলে এ ঘামঝড়ানো জয়ে ডেনমার্ককে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিলো ক্রোইটরাই। গতকাল লুঝনিকি স্টেডিয়ামে খেলার ১১ মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল রাশিয়া। এ সময় ফ্রি ডি বক্সের ডানপ্রান্তে ফ্রি কিক পায় স্পেন। কিক নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্জিও রামোসকে নিয়ে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাশিয়ার সার্জি ইগনাশেভিচ। বল তার পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ফলে স্পেন এগিয়ে যায়। ৪০ মিনিটের সময় পেনাল্টি পায় রাশিয়া। এ সময় ডি বক্সের মধ্যে জেরার্ড পিকের হাতে লাগে বল। রেফারি ভিএআর না দেখেই পেনাল্টি দেন। পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান রাশিয়ার আর্তেম জুবা। এই সমতা নিয়ে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দলের মধ্যে তুমুল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। সেখানেও খেলায় থাকে সমতা।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের দুই দলের কেউ গোল না পাওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্পেনের কোকে ও আসপাসের নেওয়া কিক ফিরিয়ে দেন রাশিয়ার গোলরক্ষক ইগোর আকিনফেভ। ফলোশ্রুতিতে, ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আটের টিকেট নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। ম্যাচসেরা হয়েছেন রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফেভ। খেলা শেষে আকিনফেভ বলেন, ম্যাচসেরা আমি নই। ম্যাচসেরা হয়েছেন রাশিয়ার সমর্থক আর গোটা ফুটবল দল।
এদিকে, ইয়ার্গেনসেনের গোলে প্রথম মিনিটে ডেনমার্ক এগিয়ে গেলেও তিন মিনিটের মাথায় মানজুকিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে আসে ক্রোয়েটরা। অন্যদিকে, গ্রুপে অপরাজিত থাকলেও মাত্র একটি ম্যাচেই জয়ের হাসি হাসতে পেরেছিল ডেনমার্ক।ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ম্যাচের মাত্র ৫৭ সেকেন্ড গোল করে ডেনমার্কে ভাগ্যপ্রসূত লিড এনে দেন ইয়ার্গেনসেন। ডেলায়নির পাস থেকে ডি বক্সের ভেতর জটলা থেকে নেয়া শট ক্রোয়েট গোলরক্ষক সুবাসিচের পায়ে লেগে জালে জড়ালে কোন কিছু বোঝার আগেই গোল খেয়ে বসে ক্রোয়েশিয়া। তবে সমতায় ফিরতেও সময় নেয়নি ক্রোয়েশিয়া।
৩ মিনিটের মাথায় মানজুকিচ দারুণ এক গোল করলে তিন মিনিটের ভেতরেই দুই গোল দেখে বসে নভগর্দ স্টেডিয়ামের সবাই। ২০ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর নুডসেন মানজুকিচকে ফেলে দিলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। ৩৯ মিনিটে কর্নার থেকে বাড়ানো বলে লভরেনের শট ডান ক্রসবারের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে ৫৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে নিলেও আর কোন গোলের দেখা পায়নি ক্রোয়েশিয়া। ফলে ১-১ সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দু’দল। নির্ধারিত সময় ও ১-১ এ সমতা। পরে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও সমানে সমান দুদল। অবশেষে টাইব্রেকারে ফলাফল আসে ক্রোয়েশিয়ার পক্ষেই।
এই বিভাগের আরও সংবাদ