বুধবার ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজনীতি এখন দিল্লিতে

আকাশবার্তা ডেস্ক :


চলতি বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা ভারত সফরের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন। আজ ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। আগামী ১৩ জুলাই ভারতের রাজধানী দিল্লি আসছেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল। তিনি সেখানে ব্যাখ্যা করবেন খালেদার কারাবন্দি ও রাজনৈতিক অবস্থা। সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়েছিলেন বিএনপির উচ্চপর্যায়ের তিন নেতা।

এর আগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দুটি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করেন। এসব সফরের উদ্দেশ্য নিজ নিজ দলের পক্ষে ভারতের সমর্থন আদায় করা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাহলে কী বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ভারতে?

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। এসব সফর তারই প্রতিফলন। তিনি বলেন, আদালতের রায়ে বহুলাংশে জনমতের প্রতিফলন ঘটে। আন্তর্জাতিক জনমতও আদালতকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে ওই জনমত যদি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ থেকে আসে তাহলেতো প্রভাব ফেলতেই পারে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) উদ্যোগ ও আমন্ত্রণে এ সপ্তাহেই ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং দলের শীর্ষ নেতা এইচটি ইমাম। তিনদিনের ওই সফরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তিনি ভাষণ দেবেন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (ওআরএফ)। এছাড়া তিনি দেখা করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দেভালের সঙ্গে। স্বভাবতই সেখানে আলোচনায় স্থান পাবে বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচন, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়।

এছাড়া ভারত থেকেও সফরে আসছেন সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এদিকে বাংলাদেশে আসার ভিসা না পেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল দিল্লি যাচ্ছেন আগামী ১৩ জুলাই। খালেদা জিয়াকে কীভাবে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে, সেই ব্যাখ্যা দিতে দিল্লি আসছেন তিনি। দিল্লিতে গিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সামনে কার্লাইল যে বার্তাটি দিতে চান তা হলো খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে। সেখানে ঢাকা থেকে এসে বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতা খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবীরাও লর্ড কার্লাইলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে স্থির হয়েছে।

কার্লাইল জানিয়েছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শুধু রাজনীতির কারণেই এ মামলাটি রুজু করা হয়েছে।’ অর্থাৎ বিএনপির পক্ষে ভারতের সফট কর্নার চাচ্ছেন এই আইনজীবী। গত মাসেই দিল্লিতে এসে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও থিঙ্কট্যাঙ্কের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিল বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ভারত সম্পর্কে বিএনপি তাদের মনোভাব বদলাতে চাইছে, সেই সফরকে তারই বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। তার পরের মাসেই খালেদা জিয়ার হয়ে কথা বলতে লর্ড কার্লাইলকে দিল্লিতে হাজির করে বিএনপি সম্ভবত আরও একবার বুঝিয়ে দিচ্ছে নির্বাচনের এই বছরে তাদের কাছে ভারতের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের জন্য ভারতের সহায়তা চান। তারা মনে করেন, বৃহৎ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের ওপর ভারতের যথেষ্ট প্রভাব আছে। সেই প্রভাব ভারত কাজে লাগাতে পারে।নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলে ভারতকেন্দ্রিক তৎপরতা দেখা যায়। বিগত ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে এটি আরও স্পষ্ট হয়।

শাসক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ১৯ জনের এক প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ভারত সফর করে যান। তার আগে কংগ্রেসের প্লেনারিতে এসেছিলেন দীপু মনির নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল। তখন বৈঠক হয় কগ্রেস নেতাদের সঙ্গে। ওই বৈঠক সম্পর্কে দীপু মণি বলেছেন, ‘উভয়পক্ষ মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে।

এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে আলাপ হয়। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভারত ঘুরে এসেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও।

সূত্র : এএইচ/আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১