আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। সুশৃঙ্খলভাবে চললে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা যাবে। ‘ঊর্ধ্বতন যে কর্মকর্তাদের অধীনস্তদের সুযোগ সুবিধা যেমন দেখতে হবে, তেমনি অধীনস্তরা, তারা যেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করবে, সেটাই আমি আশা করি।’ বৃহস্পতিাবর (০৫জুলাই) প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট-পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকা সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে পিজিআর। আর তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে সব সময় দোয়া করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘আমি নামাজ পড়ে যখন নিজের ছেলে মেয়ের জন্য দোয়া করি, দেশবাসীর জন্য দোয়া করি, তেমনি আমার আশেপাশে যারা কাজ করে, নিজেদের জীবন দিয়ে আমাকে রক্ষা করতে হয়, তাদের জন্যও আমি সব সময় দোয়া করি আল্লাহর কাছে।’ ‘শুধু আল্লাহর কাছে বলি, আমার জীবন গেলেও আমার আশেপাশে যারা তাদের জীবন যেন অক্ষয় থাকে, সে কামনা করি।’
দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পিজিআরের সুযোগ সুবিধা ও লোকবল বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া নানা চেষ্টা ও উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরেন। ‘আমি মনে করি আপনারা একটি পরিবারেরই সদস্য। আপনাদেরকে আমি আমার পরিবার হিসেবেই মনে করি।’
বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছে। সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। ‘আমরা বাংলাদেশকে উন্নীত সমৃদ্ধ করে, দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। ইতিমধ্যে দারিদ্যের হার আমরা ২২ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে।’ ‘মানবসম্পদ আমাদের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়েই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যাচ্ছি।’ ‘আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাথে আমরা উন্নয়ন বরাদ্দটাও বৃদ্ধি করেছি। আমাদের গ্রামে প্রতিটি মানুষ যেন এর সুফলটা পায়, সেই প্রচেষ্টাই আমরা চালাচ্ছি।’
‘আমাদের আয় বৈষম্য দূর হয়েছে। গ্রামে অর্থ সংকুলান হচ্ছে, গ্রামের মানুষেরও ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে।’ ‘আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। আজকে প্রায় ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, বাকিটুকুও আমরা করে দিতে পারব। শিক্ষদীক্ষা সব দিক থেকেই আমরা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’
‘লক্ষ্যটাই আমার ছিল আমার দেশকে উন্নত করতে হবে, জনগণের জীবন মান উন্নত করতে হবে, তাদের সমস্যাটির সমাধান করতে হবে। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, একটি মানুষও অভুক্ত থাকবে না। প্রতিটি মানুষই সুন্দরভাবে বাঁচবে। আর সেই সাথে আমাদের সব শ্রেণি লেখাপড়া শিখে উন্নত হবে। আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হবে।’
বাংলাদেশ যে উন্নয়নের পথে আছে, সেটি ধরে রাখার ওপরও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। গুরুত্বারোপ করেন এই অগ্রগতি ধরে রাখার ওপর। ‘আমরা চাই, দেশে যে অর্থনৈতিক গতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সেটা যেন অব্যাহত থাকে, আমরা যেন এগিয়ে যেতে পারি।’ ‘বাংলাদেশে এখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাওয়াটা যেন থেমে না যায়, এটা আমরা চাই।’