আকাশবার্তা ডেস্ক :
জামায়াতের অর্থায়নের নির্বাচন কমিশন হতে নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কংগ্রেস নামে একটি রাজনৈতিক দল। দলটি পরিচালনায় থাকা শীর্ষকর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দল গঠন, অফিস স্থাপন, বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনায় সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা অর্থায়ন করছে।
তথ্য মতে, সম্প্রতি সময়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেতে ৭৬টি রাজনৈতিক দল আবেদন করেছেন। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশ কংগ্রেস উঠে এসেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাগুজে কমিটি দিলেও বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দলটি চূড়ান্ত তালিকায় উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পেছনে ইসি কার্যালয়ের বিএনপি সমর্থক কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অথচ পঙ্কজ ভট্টাচার্যের ন্যাপ, ১৪ দলের শরিক জাসদ (আম্বীয়া-প্রধান) ববি হাজ্জাজের এনডিএম, সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদার তৃনমূল বিএনপি, সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দিন আল আজাদের বিএলডিপি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ও জুনায়েদ সাকির গণসংহতি বাদ পড়েছে।
সূত্র মতে, দলটি পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জামায়াতের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার খোঁজ পাওয়া গেছে। দলটির গঠনতন্ত্র ও পরিচালনা পদ্ধতিও অনেকটা জামায়াতের অর্থায়নের মতো। বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাড. মো: ইয়ারুল ইসলাম ছাত্রাবস্থায় সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন। কলোরোয়া সরকারি কলেজে ছাত্রাবস্থায় তিনি ছাত্রশিবিরের সামনের সারির নেতা ছিলেন।
এরপর ঢাকায় এসে কোন পদে না থাকলেও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তার চলাফেরা ছিল। যা অধিকতর তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। ইসিতে আবেদনকালে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ব্যাংক হিসেবের স্থিতি ছিল ২৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। নিবন্ধন তালিকায় উঠে আসতে প্রায় ৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এবং বছরে এক কোটির বেশি টাকা সংগঠনের পেছনে ব্যয় হয় বলে বিভিন্ন সময়ে ইয়ারুল ইসলাম দাবি করেন। এ অর্থের জোগান দাতা জামায়াতের ৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা। তবে তাদের নাম জানা যায়নি।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের নেপথ্যে জামায়াত বিএনপির ছত্রছায়ার প্রমাণ মেলে চলতি বছরের মার্চ মাসে। ঐদিন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপি’র যুগ্ন মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর সামনের সারির প্রায় সকলে ছিলেন ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। যা যাচাই করলেই পাওয়া যাবে। জামায়াত সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বাংলাদেশ কংগ্রেস মহাসচিব এ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, অনেকগুলো দল পেরিয়ে আমরা নিবন্ধন পাচ্ছি, এটা জানতে পেরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি কখনোই জামায়াতের রাজনীতি করিনি। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন করেছি, সভাপতিও না। জামায়াতের অর্থায়ণ নিয়ে তিনি বলেন, আমরা দু’জনই আইনজীবি। কত ভাবেই টাকা আসে, দলের পেছনে ব্যয় করি। এখানের জামায়াতের অর্থায়ণ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এসব মিথ্যা অপপ্রচার।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ