মো. আলী হোসেন :
যারা ভ্রমণ পিপাসু, তাদের ভ্রমণে যাবার আগে প্রথমে কোনটি দরকার জানেন? কপালের নীচের এক জোড়া চোখের বাইরেও আরেকটা চোখ আছে। যেই চোখ দিয়ে অনুভব করা যায়। সেই চোখটা সাধারণের ভেতরে থেকেও অনুভব করে অসাধারণ কিছু। এমন একটা অদৃশ্য চোখ অন্তরের ভেতরে থাকে। সেই চোখে ভ্রমণ পিপাসা ধারণ করে বেরিয়ে পড়লে অসাধারণ সব সৌন্দর্যের দেখা পেতেও পারেন। তার জন্য খুব একটা দূরে যেতে হয়না সবসময়।
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় একটি স্থান হতে পারে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার মেঘনা নদীর বেড়ি বাঁধ। যেস্থানকে সম্প্রতি মিনি কক্সবাজার হিসাবে অবহিত করেছেন দর্শণার্থীরা (পর্যটক)।

গত শনিবার (০৭জুলাই) ঘুরে এলাম সেই মিনি কক্সবাজার (আলেকজান্ডার মেঘনা বেড়ি বাঁধ এলাকা)। দুপুরে ভরা রোদে ঝলমল করে নদীর পানি। বিকালে জোয়ারের পানি আঁছড়ে পড়ে নদীর কূলে। এ সময় নদীর ওপাড় থেকে প্রবল বেগে ছুটে আসা নির্মল বাতাসের পরশে গা জুড়িয়ে যায় দর্শণার্থীদের। পড়ন্ত বিকালে অস্তগামী সূর্যের লালচে আভা এই যেন এক অপরূপ দৃশ্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে সবাইকে।
চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষথেকে সদস্যদের বিনোদনের জন্য দিনব্যাপি ঝটিকা উৎসবের আয়োজন করা হয়। ভরাবর্ষার এমন দিনে সেদিন তেজদীপ্ত সূর্য্যরে প্রখরতা ছিল উল্লেখ করার মত। সারাদিন বৃষ্টির দেখাই আর মেলেনি। অধিকাংশ সময় মেঘনার কোলে নির্মল বাতাসের ছোঁয়ায় দিনটি কেটে যায় সবার। কেউ পরিবারের প্রিয়জনের সাথে একান্তে সময় কাটায় গল্প করে। আবার কারো কারো সময় কাটে ছবি তুলে বা ঘুরে বেড়িয়ে।

সকাল সাড়ে ১০টায় বেড়ি বাঁধে প্রবেশ করে সবাই। দুপুর সাড়ে ১২টায় রওনা হয় বিবিরহাট মাঝারে। মাঝার জিয়ারত শেষে ভ্রমণ দল ছুটে যায় ওঁচখালী মাছঘাটে। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে জোহরের নামাজ আদায়। তারপর নির্ধারিত স্থানে খাবারের জন্য চলে যাই সবাই। বিকাল সাড়ে ৩টায় আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজ মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেয় প্রেসক্লাবের সদস্যরা। দল ভাগ করা হয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বনাম সাধারণ সম্পাদক গ্রুপে। ঘন্টাব্যাপি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে কোন পক্ষই গোলের দেখা পায়নি। প্রেসক্লাবের সদস্যদের পরিবারের নারী সদস্য এবং শিশু সন্তানরা খেলার পুরোটা সময় দারুন উপভোগ করেন।
খেলা শেষে পড়ন্ত বিকালে আবারো মেঘনা নদীর তীরে বেড়ি বাঁধের দর্শণ। সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য আর তীব্র বাতাসের নির্মলতা সবাইকে দারুন মুগ্ধ করে। আপনারাও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন মনোরম পরিবেশের অপূর্ব এই দর্শণীয় স্থান।

কোড-১ :
সরকারের প্রায় দুইশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে রামগতি-কমলনগরে সেনাবাহিনী কর্তৃক বাস্তবায়িত এই বেড়ি বাঁধ রক্ষণাবেক্ষনে উপজেলা প্রশাসনের কোনো তদারকি বা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। নদীর কূল বিপরীতে বাঁধের মাটির অংশে অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত ভরাট না করলে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ।
কোড-২ :
লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার মেঘনা বেড়ি বাঁধটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা যেতে পারে। উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই স্থানটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের আরেকটি কক্সবাজার। এই জন্য দর্শণার্থী পর্যটকরা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
কৃতজ্ঞতা :
চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের এই সংক্ষিপ্ত আনন্দ ভ্রমণে সার্বিক সহযোগিতার জন্য স্থানীয় সাংবাদিক প্রিয় রিয়াজ মাহমুদ বিনুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ।
লেখক : মো. আলী হোসেন, সভাপতি-চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাব, লক্ষ্মীপুর।