সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে গুলি করে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধানকে হত্যা লক্ষ্মীপুরে ৫ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে ব্রিকফিল্ড মালিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন : চলছে সংস্কার কাজ মান্দারী ক্লাবের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি বাবলু, সম্পাদক জাহিদ  লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে মব করে অপহরণ, ছাত্রদল নেতা আটক লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক

হাইকোর্টের রায় মেনে ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিদের জন্য যে ৩০ শতাংশ কোটা আছে, তা বহাল থাকবে।

মঙ্গলবার (১৭জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা জিটুপি পদ্ধতিতে প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় মানা হবে। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে ভিসির বাসভবন ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঘৃণ্য কাজ করেছে আন্দোলনকারীরা। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোটা পদ্ধতি চালু আছে। হাইকোর্টের রায় মেনে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ চাকরির ব্যবস্থা করেছিলেন। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখতে হাইকোর্টের রায় সরকার অবমাননা করতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও শিক্ষক ও জ্ঞানীজনরা কীভাবে কোটা আন্দোলনকে সমর্থন দেন। যুদ্ধাপরাধী ও তাদের অনুসারীরা যেন আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে না পারে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি তারা কখনো চাইবে না দেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত হোক। আজ সারা বিশ্বে বাংলাদেশ তার সম্মান ফিরে পেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতি ভাতা বিতরণের কার্যক্রম কক্সবাজার থেকে শুরু করলাম। পরবর্তীতে সকল জেলায় এ পদ্ধতি চালু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিসিএস দেয় তারা কি মেধাবী নয়? তারা সকলেই তো মেধাবী। আর মেধাবী ছাড়া কি কেউ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিতে পারে? পরীক্ষা তো যথেষ্ট কঠিন। ‘বিশেষ করে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে অনেক কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া তো কেউ এই পরীক্ষা দিতে পারে না। এই পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা- অত্যন্ত মেধাবী হলে তারা পাশ করতে পারে এবং তারপরে তারা চাকরি পায়।’

আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে প্র্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা (আন্দোলনকারীরা) এমন কি মেধাবী হয়ে গেলো যে যারা পরীক্ষা দিচ্ছে, পাশ করছে তারা মেধাবী নয়? এ ধরনের কথা-বার্তা এরা বলে কিভাবে বা এ নিয়ে হঠাৎ আন্দোলনে যাওয়ারই বা কি দরকার আছে? সেটা আমরা বুঝি না।

‘আর আন্দোলন করলে করবে, কিন্তু সেখানে ভাঙচুর করা, ভিসির বাড়ি আক্রমণ করা, সেখানে ভিসি পরিবার লুকিয়ে কোন মতে জীবন বাঁচিয়েছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েয় ছাত্রী ছিলাম। আমরাও আন্দোলন করেছি। দেখেছি খুব বেশি হলে ভিসির বাড়ির একটা ফুলের টব ভাঙা হতো। কিন্তু কখনো ছাত্র-ছাত্রীরা এটা চিন্তাও করতে পারেনি, যে তার বাড়ির মধ্যে ঢুকে গাড়িতে আগুন দেবে, ভাঙচুর করা, বেডরুম পর্যন্ত ঢুকে গিয়ে লুটপাট করা, চুরি করা… এ ধরনের জঘন্য কাজ কোনো শিক্ষার্থী করতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ভাবতেও লজ্জা লাগে। এরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এটা আরও লজ্জার। কারণ আমিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের মহান আত্মত্যাগে স্বাধীনতা, সেই মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত। তাদের ভাতার ব্যবস্থা করেছি। আমি জানি ভাতা দিয়ে সম্মান দেওয়া যায় না। তবে আমি চাই না তাদের কেউ কখনো কষ্ট পান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পৌঁছার খবর তাদের মোবাইল ফোনে চলে যাবে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সে টাকা তুলতে পারবেন তারা। দেশে সব মিলিয়ে ভাতাপ্রাপ্তদের সংখ্যা এখন প্রায় ৬৭ লাখ। তবে আজ ইলেকট্রনিক ট্রান্সফার পদ্ধতির আওতায় এসেছেন এক লাখ ১৫ হাজার জন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে বয়স্ক এবং পরে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তদের জন্য ভাতা চালু করেছি। পরে চালু হয় প্রতিবন্ধী, হিজড়া, চা শ্রমিক, বেদেদের ভাতা। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর হামলার সময় তিনি এলাকায় গিয়ে জেনেছেন, বয়স্ক ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে না পারলে যেন এমন কেউ করতে না পারে সে চিন্তা থেকে উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি টাকা পাঠানোর পদ্ধতি চালু করার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আবার নির্বাচন, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে জনগণের ওপর। জনগণ নৌকায় ভোট দিলে আবার ক্ষমতায় আসব, না দিলে আসব না। আর আল্লাহর ওপর নির্ভর করে। যদি আল্লাহ দেন আর জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে আসব, নাহলে আসব না।’ ‘কিন্তু তার আগে আমার কাজগুলোকে সুরক্ষিত করতে চাই যেন আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ আর ছিনিমিনি করতে না পারে এবং তাদের কাছ থেকে কেউ যেন আর টাকা কেড়ে নিতে না পারে।’

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31